নতুন বছরে ঘর গোছানোসহ পাঁচ লক্ষ্য আওয়ামী লীগের

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২১, ০২:২৮ এএম

নতুন বছরে ঘর গোছানো নিয়েই ব্যস্ত থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুষম বণ্টন নিশ্চিতসহ আরও চারটি লক্ষ্য পূরণে কাজ করবে দলটি। একই সঙ্গে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সজাগ ও সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। কারণ এ বছরই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের পাশাপাশি মুজিববর্ষের সমাপ্তি অনুষ্ঠানও হবে। তাই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও এ বছরই বেশি থাকবে। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন।

তারা বলেন, চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র রোখার উপযোগী করে তোলা হবে দলকে। শক্তিশালী সংগঠনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, আওয়ামী লীগের প্রথম লক্ষ্য হলো নতুন বছরে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করা। দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো,ঘর গোছানো। তৃতীয়টি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। সব মিলিয়ে গণতন্ত্র আরও সুসংহত করতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ নেতারা আরও বলেছেন, সাংগঠনিক কাজকর্মের মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে মাঠে রেখে সজাগ-সতর্ক রাখা হবে। নতুন বছর জুড়েই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ অব্যাহত থাকবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দলীয় রাজনীতি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেতাদের ভেতরে আস্থা-বিশ্বাস ও মনোবলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলতে হবে। এছাড়া দেশে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলেও মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণতন্ত্র সুসংহত হবে নতুন বছরে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে। কখনো মেঘ ডাকবে, গর্জন হবে। তবে শেখ হাসিনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব আবার তা নিয়ন্ত্রণ করে নেবে। সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী গোষ্ঠী পৃথিবীর সব দেশেই আছে, থাকবে। এরা কখনো কখনো বিষফোঁড়ার মতো উঠবে। আবার তাদের উপড়ে ফেলতে হবে।’

নতুন বছরে মূলত দুটি লক্ষ্য ধরে আওয়ামী লীগ কাজ করবে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলত দুটি টার্গেট করে কাজ করবে আওয়ামী লীগ। প্রথমত, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারা বজায় রাখা। দ্বিতীয়ত, সংগঠনকে ঢেলে সাজানো। ঘর ঘোছানোর কাজ ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ শুরু করেছে। নতুন বছরে সংগঠনের কাজ আরও দ্রুতগতিতে চলবে।’

হানিফ আরও বলেন, ‘সংগঠন যখন শক্তিশালী হবে তখন সরকারও আরও শক্তিশালী হবে। এই নীতি অনুসরণ করে নতুন বছর কাজ করবে আওয়ামী লীগ। এছাড়া ধর্মান্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে মোকাবিলা করা হবে।’

আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করতে নতুন বছরজুড়েই বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চলবে বলে জানিয়েছেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেকোনো সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি হয় তখনই, যখন সংগঠন শক্তিশালী হয়; জনমুখী কর্মকাণ্ড থাকে ওই রাজনৈতিক দলের। আমরা আওয়ামী লীগকে তেমন শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করতে বছরজুড়ে কাজ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র চলছে। সংগঠনকে শক্তিশালী করে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করবে। আমাদের সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে এ বছর। কারণ এ বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব আমরা। তাই এ বছরই দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বেশি হবে।’

দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক শক্তি হিসেবে নতুন বছরে মাঠে আরও সক্রিয় থাকবে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিকভাবে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে। আওয়ামী লীগ আরও বেশি জনসম্পৃক্ত থাকবে এ বছর।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত