বিশ্বের সবচেয়ে বড় চকলেট মিউজিয়াম

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২:৫১ এএম

সুইজারল্যান্ডের কিলচবার্গে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চকলেট মিউজিয়াম। এখানে জানা যাবে চকলেটের ইতিহাস, কীভাবে চকলেট প্রস্তুত করা হয় এমন নানা বিষয়ে। মিউজিয়ামে আরও আছে চকলেট শপ, বানিয়ে নেওয়া যাবে নিজের পছন্দসই চকলেটও। ভিন্ন ঘরানার এই মিউজিয়াম সম্পর্কে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

শিশুর মন ভোলাতে, ভালোবাসা প্রকাশে, উপহার হিসেবে সবখানেই চকলেটের ব্যবহার হয়ে আসছে বহু আগে থেকে। চকলেটপ্রেমীদের কাছে ক্যাডবেরি, মার্স, লিন্ডট, কিটক্যাট নামগুলো সুপরিচিত। প্রিয় মানুষের রাগ ভাঙাতে হাতে এক বক্স চকলেট তুলে দেওয়া মানেও কিন্তু রাগ মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় শতভাগ। কেমন হয় চকলেটপ্রিয় এই মানুষগুলোকে যদি সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় পুরো একটা চকলেটের মিউজিয়ামে? অবশ্য এই মিউজিয়ামে যেতে পারবেন চকলেট পছন্দ করেন না এমন মানুষও। বলছি সুইজারল্যান্ডের কিলচবার্গে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘লিন্ডট হোম অব চকলেট’ মিউজিয়ামের কথা। মিষ্টি জগতের ইতিহাসে চকলেট নিয়ে নানা গবেষণা আর ইতিহাস জানার জন্য নিঃসন্দেহে এই মিউজিয়াম অনন্য একটি ভূমিকা রাখতে চলেছে।

চকলেটের ঝরনা

মিউজিয়াম মানেই জানা-অজানা নানা তথ্যের সংগ্রহশালা। এরই সঙ্গে থাকে এসব তথ্য প্রকাশের জন্য দৃষ্টিনন্দন নানা বিষয়। ‘লিন্ডট হোম অব চকলেট’ও এর ব্যতিক্রম নয়। দর্শকদের আকর্ষণ করার জন্য ৬৫ হাজার স্কয়ার ফিটের এই চকলেটের মিউজিয়ামের একদম মধ্যখানে দাঁড় করানো আছে ৩০ ফিট লম্বা একটি চকলেটের ঝরনা। ঝরনার ওপরে সোনালি রঙের হুইস্কটি এমনভাবে ধরা আছে, যেন সেখান থেকে চকলেট গড়িয়ে পড়ছে। এই ঝরনায় দেওয়া আছে ১৫০০ লিটার লিকুইড চকলেট। প্রতি সেকেন্ডে চকলেটের ঝরনার ভেতর ৩০৮ ফুটের পাইপের মধ্য দিয়ে ২.২ পাউন্ড সত্যিকারের লিকুইড চকলেট প্রবাহিত হয়। পুরো এই ঝরনার ওজন তিন টন।

শিক্ষণীয় বিষয়

মিউজিয়ামটি যে শুধু আনন্দদায়ক দেখার জায়গা তা-ই নয়, এখানে শিক্ষণীয় অনেক বিষয়ও আছে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে বিস্তৃতভাবে জানতে পারেন চকলেটের ইতিহাস, কীভাবে কোকোয়া বিন চাষ করা হয়, কীভাবে চকলেট তৈরি করা হয়, সুইস চকলেটের ইতিহাস, বিশ্বজুড়ে কীভাবে চকলেট জনপ্রিয় হলো ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে। এখানে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, দর্শনার্থীরা নিজেরাই পছন্দমতো নিজেদের চকলেট এখানে বানিয়ে নিতে পারবেন। কীভাবে চকলেট বানাতে হয় সে বিষয়ে লিন্ডট চকলেটেরিয়ায় রয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি, যারা হাতে-কলমে শিখিয়ে দেবেন সব। এখানে আরও আছে ১৬৪০ স্কয়ার ফুটের বিশাল একটি গিফট শপ। যেখানে পছন্দমতো চকলেট বানিয়ে নেওয়া যাবে।

ব্যতিক্রমী এই ভাবনা নিয়ে লিন্ডট চকলেট কম্পিটেন্স ফাউন্ডেশন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট আর্নেস্ট ট্যানার বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডে এই মিউজিয়াম তৈরির মাধ্যমে চকলেট ইন্ডাস্ট্রি আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আশা করছি প্রতি বছর এখানে সাড়ে তিন লাখ দর্শনার্থীর দেখা আমরা পাব।’ চকলেট মিউজিয়ামের উদ্বোধনের দিন সুইস ফেডারেল কাউন্সিল ইউলি মোরার বলেছিলেন, ‘আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম একটি অংশ হচ্ছে চকলেট। আমাদের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হচ্ছে চকলেট খাত। আর এ কারণে সুইজারল্যান্ডের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করার জন্য স্থানীয় চকলেট বিশেষজ্ঞদের বেশি অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে।’ গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর মিউজিয়ামটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সুইস টেনিস প্লেয়ার ও লিন্ডটের অ্যাম্বাসেডর রজার ফেদেরার মিউজিয়ামটি উদ্বোধন করেন।

চকলেট শপ ও ইভেন্ট

লিন্ডট হোম শুধু চকলেট বিষয়ের সব স্বপ্নপূরণ হবে এমন জায়গা নয়। এখানে আরও আছে চকলেট শপ, ক্যাফে, রয়েছে ইভেন্টের সুযোগও। ক্যাফেতে হট চকলেট, সুস্বাদু সালাদ, চকলেট দিয়ে বানানো মজাদার খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকসও পাওয়া যাবে। ক্যাফের পাশাপাশি জন্মদিন বা করপোরেট কোনো আয়োজন করতে চাইলে সেই সুযোগও আছে মিউজিয়ামে। ইভেন্টের জন্যও আপনি নির্ধারিত দিনে জায়গা পেয়ে যাবেন। চকলেটেরিয়ায় সাধারণত ৬০ জন এবং অডিটোরিয়ামে ১০০ জনের মতো মানুষ মিলে আয়োজন উপভোগ করা যাবে।

মিউজিয়ামের ভেতর লিন্ডট চকলেট শপকে বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চকলেট শপ। এখানে আপনি খুঁজে পাবেন বিভিন্ন স্বাদের মজাদার সব চকলেট। নিজস্ব নকশায় ও প্যাকেজিংয়ে বানিয়ে নিতে পারবেন পছন্দসই চকলেট।

নতুন উদ্ভাবনা

দেশ ও দেশের বাইরে সুইস চকলেটের গুরুত্ব বুঝতে পেরে চকলেট নিয়ে আরও কাজ করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে লিন্ডট চকলেট কম্পিটেন্স ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা হয়। চকলেটের জন্য সুইজারল্যান্ড অনেক আগে থেকেই জনপ্রিয়। দাতব্য সংস্থাটি অভিজ্ঞ সুইস চকলেট প্রস্তুতকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাদের উদ্ভাবনকে প্রচার করার উদ্যোগ নেয়। বিশেষজ্ঞদের দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নানা বিষয় নিয়ে তাদের ট্রেনিং দেওয়া হয়। চকলেট নিয়ে যে তরুণরা কাজ করছেন, তাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। চকলেট কীভাবে তৈরি হয়, কীভাবে বিভিন্ন টেকনোলজি ব্যবহার করা হয় এসব বিষয় নিয়ে ইউনিভার্সিটি ও অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রিসার্চ করা হয়। ফাউন্ডেশনটির মূল প্রজেক্ট ছিল লিন্ডট হোম অব চকলেট। কভিড-১৯-এর কঠিন এ অবস্থায় ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত মিউজিয়ামটি বন্ধ থাকবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ দর্শনার্থীরা আবার প্রবেশ করতে পারবেন মিউজিয়ামে।

নির্মাণপদ্ধতি

মিউজিয়াম ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের শুরুর দিকে। ফুটবল মাঠের সমান এই ভবনটি তৈরি করতে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৯০ টন মাটি সরাতে হয়েছে। কয়েক মাস পর একই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য অতিথিদের নিমন্ত্রণ জানানো হয়। অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার, কিলচবার্গের প্রেসিডেন্ট, ১০০-এরও বেশি অংশীদার। বন্দুকের গুলি ছুড়ে কনস্ট্রাকশন কাজের জায়গায় স্থাপিত করা হয় ‘টাইম ক্যাপসুল’। এই ক্যাপসুলটি ভর্তি করা হয়েছিল লিন্ডট চকলেটের উদ্ভাবক রুডলফ লিন্ডটের নিজস্ব চকলেটের রেসিপি থেকে বানানো চকলেট দিয়ে। সবার শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয় মিউজিয়ামের।

এ ঘটনার প্রায় এক হাজার দিন পর, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ভবনটি অফিশিয়ালি হস্তান্তর করা হয় মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের হাতে। অফিশিয়ালি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার আগে ২০২০ সালের আগস্ট মাস নাগাদ ভেতরের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করা হয়।

পেছনের কাজ

সময়ের মধ্যে যেন মিউজিয়াম উদ্বোধন করা যায় সেজন্য ৫০ জন বিশেষজ্ঞ মাসের পর মাস নিরলস পরিশ্রম করেছেন। চকলেট নির্মাণপদ্ধতি দেখা ছাড়াও দর্শনার্থীরা যেন নিজেরাই চকলেট বানাতে পারেন, সেই প্রস্তাব থাকায় সেটি নিয়েও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করা হয়েছে। সব মেশিন যেন ঠিকভাবে কাজ করে, দর্শকদের যেন কোনো কিছু দেখতে বা বুঝতে সমস্যা না হয়, সেজন্য ৪০টিরও বেশি ইন্টারফেস স্থাপন করা হয়েছিল মিউজিয়ামে।

মেশিন যেন ঘণ্টায় সাত হাজার লিন্ডট স্কয়ার চকলেট তৈরি ও প্যাকেট করতে পারে এমনভাবেই সেটি তৈরি করা হয়েছে। সলিড বা লিকুইড যেকোনো ধরনের চকলেটই সামনে দাঁড়িয়ে বানিয়ে নেওয়া যাবে। বিভিন্ন আকৃতির চকলেটের জন্য প্রায় এক হাজারটি মোল্ড রাখা আছে। পুরো মিউজিয়ামের সবকিছুই আকর্ষণীয়। এর মধ্যে বৃহৎ আকারে কোকোয়া কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে সেটি উন্মুক্তভাবে দেখতে পারাটা দর্শকদের জন্য একদম নতুন ও আনন্দময় একটি অভিজ্ঞতা। একবারের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পাঁচ থেকে দুইশ কেজি পর্যন্ত কোকোয়া তৈরি হয়।

আর্কিটেকচার

মিউজিয়াম ভবনের আর্কিটেক্টের কাজ করেছেন সুপরিচিত আর্কিটেক্ট ক্রিস্ট ও গ্যান্টেনবেন। ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঐতিহাসিক লিন্ডট অ্যান্ড স্প্রাংলি ফ্যাক্টরির আদলে মিউজিয়ামের আধুনিক নকশা করা হলেও কিলচবার্গের বাইরের দৃশ্যের সঙ্গেও এটি বেশ ভালোভাবেই মানিয়েছে। তিন তলাসদৃশ এই ভবনের ইন্টেরিয়র ডিজাইন মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ট। প্যাঁচানো সিঁড়ি, রহস্যময় হাঁটার রাস্তা, চোখ ধাঁধানো আলো, ভবনের বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশের জন্য আকর্ষণীয় প্রবেশদ্বার সব মিলিয়ে মিউজিয়ামটি নিজেদের পরিচিত করেছে একদম ভিন্নভাবে।

লিন্ডট চকলেটের পেছনের গল্প

বিশ্বজুড়ে লিন্ডট নামের যে চকলেট আজ চকলেটপ্রেমীদের কাছে ভালোবাসা নিয়ে জায়গা করে নিয়েছে, তার পেছনের গল্পটার জনক রুডলফ লিন্ডট। তিনি ছিলেন একজন সুইস চকলেট প্রস্তুতকারী এবং সফল উদ্ভাবক। ১৮৫৫ সালের ১৬ জুলাই সুইজারল্যান্ডের বার্নে জন্মগ্রহণ করেন লিন্ডট। ১৮৭৩-৭৫ সাল পর্যন্ত বিখ্যাত সুইশ ম্যানুফ্যাকচারার আমেদি কোলারের সঙ্গে কাজ করে চকলেট বিষয়ে নানা জ্ঞান অর্জন করেন। ১৮৭৯ সালে বার্নের আয়ারে নিজস্ব একটি চকলেট ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করেন।

সে সময় সম্ভবত চকলেট তৈরিতে লিন্ডটের নামই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল। ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার পর সুগন্ধযুক্ত ও গলে যায় এমন চকলেট উদ্ভাবন করেন তিনি। রুডলফের অন্যতম আবিষ্কার ছিল কঞ্চিং মেশিন। চকলেটের সৌন্দর্য ধরে রাখতে ও তিতা ভাব দূর করে স্বাদ বাড়াতে এই মেশিন কাজ করত। এই মেশিন আবিষ্কারের পরই নতুন নতুন স্বাদের চকলেট তৈরি শুরু হলো। মুখে দিলেই গলে যায় এমন চকলেটের স্বাদ পাওয়া শুরু হয়েছিল সে সময় থেকেই।

এমন মজার চকলেটও যে একদিনে বা অল্প সময়ে তৈরি হয়েছিল তা নয়। রুডলফকে বেশ কয়েকবার বিড়ম্বনাতেও পড়তে হয়েছে এই কঞ্চিং মেশিন নিয়ে। সেভাবে কোনো কাজ হচ্ছিল না দেখে রুডলফের ভাই তাকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন। তিনি এক রকম হতাশই হয়ে যাচ্ছিলেন। ভালো মানের চকলেট তৈরি করতে পারছিলেন না বলে এক শুক্রবারে বেশ বিরক্ত হয়ে ফ্যাক্টরি থেকে বের হয়ে যান রুডলফ। যাওয়ার আগে কঞ্চিং মেশিনটি বন্ধ করতে ভুলে যান। সোমবার সকালে যখন তিনি ফ্যাক্টরিতে ফিরে এলেন, দেখলেন মেশিনে তৈরি হয়ে আছে নরম, মোলায়েম, চকচকে চকলেট। দীর্ঘ সময় মেশিনে থেকে চকলেট যে শুধু মোলায়েমই হয়েছে তা-ই নয়, কোকোয়ার তিতা ভাব দূর হয়ে সেখানে জায়গা করে নিয়েছে মিষ্টি স্বাদ।

এরপর থেকে কঞ্চিংয়ের চাহিদা বেড়ে যায়। চকলেট উৎপাদনে এই কঞ্চিং মেশিন হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ এক উপাদান। চকলেট তো মোলায়েম হলো, এখন কাজ করতে হবে স্বাদ আর সুগন্ধ নিয়ে। রোলিং মিলে চকলেটে দেওয়া ক্ষুদ্র উপাদানগুলো সব সময় ভালোভাবে গুঁড়ো হয় না। এই কঞ্চিং মেশিন সেই উপাদানগুলোকে আরও গুঁড়ো করতে সহায়তা করত। একই সময়ে যত বেশি চকলেটকে তাপ দেওয়া হতো, তত তার ভেতরের তিতাভাব কমে আসত। এ ছাড়া কোনো পানি থাকলে সেটিও দূর করে চকলেটের সঠিক আর্দ্রতা বজায় রাখত এই মেশিন। আর এ বিষয়টি ভালোভাবে গলে যাওয়া যেকোনো চকলেটের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। লিকুইড চকলেটের সঙ্গে পরে মেশানো হতো কোকোয়া বাটার। কঞ্চিং শেষে চকলেট ট্যাবলেট, ফাঁপা আর কুড়মুড়ে চকলেট বানানো হতো। ১৮৯৯ সালে রুডলফ কঞ্চিংয়ের গোপনস্বত্ব বিক্রি করে দেন। চকলেট নিয়ে তার অভিনব সব রেসিপি কিনে নেন চকলেট স্প্রাংলির মালিক জোহান রুডলফ স্প্রাংলি। মেশিন ও ফ্যাক্টরির বিক্রীত মূল্য ছিল দেড় মিলিয়ন গোল্ড ফ্র্যাংক। তবে বিক্রীতে অন্যতম শর্ত ছিল এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জুড়ে দিতে হবে লিন্ডটের নামও। সেই থেকে আজ পর্যন্ত লিন্ডট চকলেট জায়গা করে রেখেছে চকলেটপ্রেমীদের মধ্যে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত