২০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি, হিলির আমদানিকারকের শর্ত প্রত্যাহারের দাবি

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৩:৩৫ পিএম

হিলি স্থলবন্দরের দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ২০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে। তবে চালের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে শর্ত তুলে দিয়ে সকল আমদানিকারককে চাল আমদানির অনুমতির দাবি আমদানিকারকদের।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চাল আমদানির অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হিলি স্থলবন্দরের দুটি প্রতিষ্ঠান ২০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে গনেশ প্রসাদ সাহার ইউনাইটেড রাইস মিল পেয়েছে ৫ হাজার টন ও হাকিম মন্ডলের রেনু কনস্ট্রাকশন নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে ১৫ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মামুনুর রশীদ ও মাহফুজার রহমান বলেন, আমরা প্রথমেই ধন্যবাদ জানাতে চাই চালের ঊর্ধ্বমুখী রুখতে সঠিক সময়ে চাল আমদানির সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

তারা বলেন, আমরা ভারত থেকে চাল আমদানি করতে ইচ্ছুক, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ভারত থেকে চাল আমদানি করে বাজার স্থিতিশীল করতে চাই। কিন্তু চাল আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংক লিমিটসহ সরকার যেসব শর্ত জুড়ে দিয়েছে এসব শর্তের কারণে বন্দরের ছোট আমদানিকারকরা চাল আমদানি করতে পারবে কিনা সন্দিহান এতে করে যে উদ্দেশ্য নিয়ে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেটি সম্ভব হবে না।

এ ছাড়া আমদানিকারকদের ফ্রুডগ্রেইন লাইসেন্স চাওয়া হয়েছে যেটি থাকে মিলারদের। ভারতে পর্যাপ্ত চাল রয়েছে দামও সাশ্রয়ী পর্যায়ে রয়েছে, ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা বারবার আমাদের নিকট খোঁজখবর নিচ্ছে কি হচ্ছে অনুমোদনের। তাই সরকারের উচিত আবেদন সাপেক্ষে সকল আমদানিকারককেই চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া তাতে করে সকল আমদানিকারক চাল আমদানি করলে চালের বাজার স্থিতিশীল হবে।

একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ৩০ দিনের মধ্যে সব চাল আমদানি করতে হবে এটিও সংশোধনীর প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কারণ চাল আমদানির বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করবে রপ্তানিকারকদের ওপর, তারা সব চাল এক সঙ্গে পাবে কিনা দিতে পারবে কিনা।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, অনুমতি পাওয়ার পর পরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভারত থেকে চাল আমদানির জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ওই প্রতিষ্ঠান দুটি।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, আমদানিকৃত এসব চাল দেশে প্রবেশ করলে দেশের বাজারে চালের যে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থা সেটি স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসবে।

তবে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ত্রিশ দিনের মধ্যে সকল চাল আমদানির যে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে সেটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা।

এর কারণ হলো হিলি স্থলবন্দরের একটি মাত্র সড়ক দিয়ে পণ্য আমদানি রপ্তানি হয়ে থাকে, যে সড়কটি বেশ সরু যার কারণে যানজট লেগেই থাকে, এ ছাড়া ভারতে সিরিয়ালের ওপর নির্ভর করে পণ্য আমদানির এর ওপর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খালি গাড়ি যাওয়ার কারণে এরপর থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। এ কারণে সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল আমদানি করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে তাই বিষয়টি শিথিলের অনুরোধ জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে শুধুমাত্র বড় বড় আমদানিকারকদের অনুমোদন না দিয়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত