রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ট্রাকচাপায় অভিনেত্রী আশা চৌধুরী নিহত হওয়ার পর নয় দিন পেরিয়ে গেলেও ধরা যায়নি ট্রাকচালককে। ঘাতক ট্রাকটিও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে ট্রাকটি দেখা গেলেও তার নম্বর প্লেট অস্পষ্ট ছিল।
ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলটি রাস্তা পার হওয়ার জন্য সঠিক স্থানে থাকলেও ট্রাকচালকের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও বলছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে এ দুর্ঘটনার নেপথ্যে ট্রাকচালকের ভুল রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করেও ট্রাকটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ট্রাক শনাক্তে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কতৃপক্ষের (বিআরটিএ) রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) বিভাগের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ।
তবে আশার পরিবারের সন্দেহ মোটরসাইকেলটির চালক শামীম আহমেদ এ মৃত্যুর জন্য দায়ী। শামীমের কথার অসংলগ্নতা ও এতো রাতে আশার সঙ্গে থাকার বিষয়টি ভালো ভাবে নিচ্ছেন না তারা।
গত ৪ জানুয়ারি গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর রোডের টেকনিক্যাল মোড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন অভিনেত্রী আশা।
আশার স্বজনেরা বলছেন, ওই দিন রাত ১১টার দিকে আশা তার মাকে ফোনে জানায় সে বনানীতে আছে। ২০ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফিরবে। বনানী থেকে কালশী রোড হয়ে আশার মিরপুর রূপনগর আবাসিক এলাকার বাসায় ফেরার কথা ছিল রাত ১১টার মধ্যে। কিন্তু রাত প্রায় ২টার দিকে শামীম আহমেদ আশার মাকে ফোন দিয়ে দুর্ঘটনার খবর জানায়। আশার পরিবারের পূর্বপরিচিত শামীমের মোটরসাইকেলেই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয় আশা। স্বজনদের সন্দেহ হয় শামীমই নেশাজাতীয় কিছু খাইয়েছিল আশাকে। আশা সুস্থ থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না। আশা রাস্তায় ছিটকে যাওয়ার পর সে একবারও ধরেনি।
এসব অভিযোগ এনে মোটরসাইকেল চালক শামীম আহম্মেদসহ অজ্ঞাত পরিচয়দের বিরুদ্ধে রাজধানীর দারুসসালাম থানায় মামলা করেন আশার বাবা আবু কালাম। এ মামলায় মোটরসাইকেল চালক শামীমকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে আশাকে বহনকারী মোটরসাইকেলটি কল্যাণপুর দারুস সালামের দিক থেকে এসে টেকনিক্যাল তিন রাস্তা মোড় থেকে ডানে মিরপুর ১ নম্বর রোডে যাওয়ার জন্য ট্র্যাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় একটি ট্রাক একই দিক থেকে এসে সোজা গাবতলি যাওয়ার সময় হঠাৎ ডানে চাপ দেয়। পরে আবার বামে চেপে বেরিয়ে যায়। এসময় আশাকে বহনকারী মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা লাগে। দুর্ভাগ্যতাবশত মোটরসাইকেলেটি ও তার চালক ডানে কাত হয়ে পড়লেও আশা বামে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ট্রাকটি সোজা চলে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার এসআই সুহান আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ট্রাকটি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি। বিআরটিএ’র সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের একটি সংস্থা আছে আরএফআইডি। তারা একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে যেটি রেডিয়েশনের মতো। এর মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। আমি বিআরটি’র বনানী কার্যালয়ে কথা বলেছি। তারা দু-এক দিনের মধ্যে একটি লিস্ট দিতে পারে। আমরা আশাবাদী দুই এক দিনের মধ্যে আমরা গাড়িটা অন্তত শনাক্ত করতে পারব।
তিনি বলেন, গাড়ির নম্বর শনাক্তে আমি ডিএমপি কন্ট্রোল ও ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সিসিটিভি ফুটেজ, হাইওয়ে পুলিশ ও ঢাকা রেঞ্জ অফিসের ফুটেজ চেক করেছি। সেখানে গাড়ি দেখা যায় কিন্তু নম্বর প্লেট অস্পষ্ট। নম্বর পেলে এতদিন লাগতা না। আমরা গাড়ি শনাক্ত করে আসামি গ্রেপ্তার করতে পারতাম।
আশার বাবা আবু কালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ এখনো ট্রাক শনাক্ত করতে পারেনি। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আশার সঙ্গে কী ঘটেছে তা উদ্ঘাটন হোক।’
তিনি আরো বলেন, শামীম আশার পূর্বপরিচিত হলেও তিনি ২০ বার ফোন দিলে এক বার ধরত আশা। আশার মৃত্যুর আগে দীর্ঘ সময় তারা ঢাকায় ঘুরেছে, খেয়েছে বলে দাবি করেছে শামীম। এছাড়া শামীমের একেক সময় একেক কথায় আমাদের সন্দেহ হয়েছে। এজন্য তাকে আসামী করেছি।’
