দুই দিনে তিন খুন, পৌরসভা নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ছে

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৪৯ এএম

দ্বিতীয় দফায় দেশের ৬১টি পৌরসভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় উত্তাপ বাড়ছেই। আগামীকাল শনিবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচনী এ উত্তাপ কোনো কোনো জায়গায় রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। গত বুধবার রাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর ভাই খুনের পাঁচ ঘণ্টা পর নদীতে পোঁতা অবস্থায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। সেখানে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। একই দিন রাতে নরসিংদীর মনোহরদীতে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন কাউন্সিলর প্রার্থী, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। এ সময় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার তথ্য মিলেছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সংঘাতে নিহত হয়েছেন একজন। ওই ঘটনায় আহত হন কয়েকজন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের তারাবো ও গাজীপুরের শ্রীপুরে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যেই এ ধরনের সহিংসতা বেশি ঘটছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনের আর মাত্র এক দিন বাকি। এ অবস্থায় নির্বাচনী পরিবেশ সংঘাতময় হয়ে ওঠায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিস্তারিত দেশ রূপান্তরের পাঠানো প্রতিনিধিদের খবরে:

শৈলকুপায় কাউন্সিলর প্রার্থীর ভাই খুনের পাঁচ ঘণ্টা পর নদীতে পোঁতা প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লাশ : ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর ভাই খুনের পাঁচ ঘণ্টা পর প্রতিপক্ষ প্রার্থী আলমগীর খান ওরফে বাবুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাত ২টার দিকে বারইপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন কুমার নদে পোঁতা আবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নদীর ভেতরে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল মরদেহটি। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে এই কাউন্সিলর প্রার্থীর তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে এলাকাবাসীর কেউ কেউ এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন।

আলমগীর খান শৈলকুপা পৌরসভার কবিরপুর গ্রামের জালাল আহম্মেদ খানের ছেলে। আসন্ন শৈলকুপা পৌরসভা নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পাঞ্জাবি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন তিনি। তার লাশ উদ্ধারের আগে গত বুধবার রাত ৯টার দিকে কবিরপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হোসেনের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত হোসেন ওরফে বল্টু (৫০) ছুরিকাঘাতে নিহত হন। বল্টু হত্যায় আলমগীর খানকে দায়ী করে তাৎক্ষণিক সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী শওকত হোসেন। বল্টু হত্যার মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পর প্রতিপক্ষ প্রার্থী আলমগীর খানের লাশ উদ্ধার হলো।

নির্বাচনের আর মাত্র এক দিন বাকি থাকতে নির্বাচনী পরিবেশ সংঘাতময় হয়ে ওঠায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান কবিরপুর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছেন। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে বিধি মোতাবেক এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হোসেন ও তার ছোট ভাই আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত হোসেন বল্টু গত বুধবার রাতে পৌর এলাকার কবিরপুরের ভূঁইমালী পাড়াতে প্রচার চালাতে যান। এ সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পাঞ্জাবী মার্কার আলমগীর হোসেন বাবুর সমর্থকরা বল্টুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। হামলায় বল্টুর ভাই কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হোসেনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে লিয়াকত হোসেন মারা যান। আর বল্টু হত্যার পাঁচ ঘণ্টা পর কুমার নদে পোঁতা অবস্থায় আলমগীর খানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হোসেনের ভাই লিয়াকত হোসেন বল্টু এবং তাদের প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর খানের মৃত্যুর পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। পাশাপাশি দুই গ্রামে মৃতদের স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। তাদের মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংর্ঘষ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কুমার নদের ভেতরে দাঁড়ানো অবস্থায় পুঁতে রাখা আলমগীর খানের মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’

লিয়াকত হোসেন বল্টু এবং আলমগীর খানের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আরিফুল আরও বলেন, ‘পৃথক এ দুটি ঘটনায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।’

মনোহরদীতে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা: নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন কাউন্সিলর প্রার্থী, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে দলটির মেয়র প্রার্থী আমিনুর রশিদ সুজনের সমর্থকরা। এ সময় হামলাকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মেয়র সুজন অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষের হামলায় তার দুই ভাইসহ কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে মনোহরদী হিন্দুপাড়াসহ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় মেয়র আমিনুর রশিদ সুজন শতশত নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মনোহরদী বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিলে গোটা পৌর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়রকে বাসস্ট্যান্ড থেকে সরিয়ে দিলে ভোর ৪টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, পৌরসভা নির্বাচনে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশিদ সুজন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কফিল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক আবসুদ সামাদ মোল্লা জাদুর নাম প্রস্তাব করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তালিকার সবার মনোনয়নপত্র কেনার কথা থাকলেও মেয়র সুজন ছাড়া কেউ মনোনয়নপত্র কেনেননি। মেয়রের হুমকির মুখে একাধিক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কেউ মনোনয়নপত্র কেনেননি। মেয়র সুজন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর স্থানীয় এমপি শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও সব অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য কাজ করছেন। কিন্তু পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে বর্তমানে ৬টিতেই বিএনপির কাউন্সিলর। যাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই মেয়র সুজনের সখ্য রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে ৪টি ওয়ার্ডে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের প্রার্থী দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রীর ছেলে মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী। যা নিয়ে মেয়র সুজনের সঙ্গে মন্ত্রীপুত্র সাদীর মতবিরোধ দেখা দেয়।

গত বুধবার রাত ৮টায় মনোহরদী হিন্দুপাড়া সার্বজনীন দুর্গাবাড়িতে মেয়র আমিনুর রশিদ সুজনের সর্বশেষ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক বাবু প্রিয়াশীষ রায়, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিল্পমন্ত্রীর ছোট ভাই নজরুল মজিদ মাহমুদ স্বপন ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যকরী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কাউন্সিল প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে যোগ দেন। রাত ১১টার দিকে সভা শেষে ফেরার পথে কাউন্সিলর প্রার্থী হারুন মাঝি ও খোকন রায়ের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে হারুন মাঝির পক্ষে অবস্থান নেন মেয়র সুজনের সমর্থকরা। আর খোকন রায়ের পক্ষে অবস্থান নেন সাদীর সমর্থকরা। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে মেয়রের দুই ভাইসহ কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের ৫টি মোটর সাইকেল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হকের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মেয়র সুজনের নেতৃত্বে তার শত শত সমর্থক মনোহরদী বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হন। সেখান থেকে মেয়রের সমর্থকরা প্রথমে মনোহরদী হিন্দুপাড়ার মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং নরসিংদী জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক সুমন বর্মণ, কাউন্সিলর প্রার্থী পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন রায়, সুকোমল সাহার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। হামলা চালানো হয় সাংবাদিক সুমন বমর্ণের তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিহির রায়ের দোকানে। পরে একে একে চকপাড়া এলাকায় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শরীফ রায়হান ও তার সমর্থকদের বাড়িঘর ও অফিসে, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেনের অফিস ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

হামলায় আহতদের মধ্যে চন্দনবাড়ি এলাকার মেয়র সুজনের বড় ভাই মামুনুর রশিদ (৩৫), ছোট ভাই হাসানুর রশিদ তন্ময় (২৫), ইমতিয়াজ মান্নান (৩০), আল সাঈদী সাম্মী (৩২) শফিকুল আলম (৪৫), সোহেল আকন্দ (২৬) মাঝিপাড়া এলাকার মাসুম হাসান শুভ (৩০), লেবুতলা এলাকার নজরুল ইসলামকে (৪০) মনোহরদী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে মামুনুর রশিদ ও শফিকুল আলমকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে। থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বর্তমানে পরিস্থিতিতে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলার যাতে অবনতি না হয়, সে জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী বলেন, মেয়র নিজের সুবিধার জন্য বিএনপির কাউন্সিলরকে বিজয়ী করতে চান। যেহেতু আমি দলীয় কাউন্সিলরের পক্ষে তাই এটাকে ইস্যু করে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থক ও মেয়রের সমর্থকরা নৌকার উঠান বৈঠক শেষে ফেরার পথে আমার ওপর হামলা চালায়। পুলিশ আমাকে উদ্ধার করেছে।  তারা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালিয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

চসিক নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার শঙ্কা বাড়াচ্ছেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ছাড়াতে শুরু করেছে উত্তাপ। ইতিমধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে নির্বাচনী সংঘাতে নিহত হয়েছেন একজন। ওই ঘটনায় আহতও হয়েছেন একাধিক। আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর অনুসারীদের সংঘাতে ঘটে গোলাগুলির ঘটনাও।  গত কয়েক দিন আরও কয়েকটি ওয়ার্ডে ঘটেছে সংঘর্ষ-সহিংসতার ঘটনা। নেতাকর্মীদের অভিযোগ মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক এসব রাজনৈতিক অস্থিরতায় আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা করছেন নাগরিকরা।  তবে কেউ আইন ভঙ্গ করলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন সিএমপি কমিশনার।

জানা গেছে, গত সোমবার রাতে মতিয়ারপোল আবেদিয়া স্কুলসংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ ছিল আবদুল কাদেরের সমর্থকরা। গত মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেন বিদ্রোহী প্রার্থী কাদের।

নগরীর যেসব এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে সংঘর্ষ ও হামলা ঘটেছে সেসবের তথ্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রমতে, মূলত দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেসব এলাকায় অবনতি হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে, ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড, ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ড , ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ড, ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ড, ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ড ও ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডের ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহীরা বেপরোয়া বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে লালখান বাজার আলোচনার শীর্ষে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল হাসনাত বেলালের নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপের মধ্যে প্রতিনিয়ত হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। বিদ্রোহী প্রার্থী এ এফ কবির আহমদ মানিকের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ। সর্বশেষ ২৫ ডিসেম্বর রাতে আলমগীর হোসেন নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাসুমের পাঁচ অনুসারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আলমগীরের আহত হওয়ার ১২ ঘণ্টার মাথায় প্রতিপক্ষের এক যুবক ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছে। মাসুম বর্তমানে প্রার্থী না থাকলেও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধতার কারণে সংঘাত বাড়বে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রফেশনালি সবকিছু ডিল করছি। আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। নিয়মিত পুলিশি অভিযান চলবে। পাশপাশি সব ধরনের পুলিশি গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। এলাকাকেন্দ্রিক অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন চলছে। আমরা আইনের যথাযথ প্রয়োগ করব। পুলিশ কমিশনার সতর্কবার্তা দিয়ে আরও বলেন, কেউ আইন ভঙ্গ করলে, কোনো ধরনের ক্রাইম করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত