স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসের সাতবারের চেষ্টায় সিংহাসনে আরোহণের গল্প মোটামুটি সবার জানা। কিন্তু মানুষ হয়ত জানেন না সিংহাসন বা ক্ষমতা নয়, মাত্র গাড়ি চালানোর লাইসেন্সের জন্যও কাউকে ১৫৮ বার চেষ্টা করতে হয়। গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেতে পৃথিবীর সব দেশেই উত্তীর্ণ হতে হয় ড্রাইভিং টেস্টে। আগ্রহীদের বেশিরভাগই এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও ব্যর্থ হন কিছু মানুষ। দুই-চার বা দশবারের চেষ্টায় না পেয়ে অনেকেই হাল ছেড়ে দেন। তাই বলে ১৫৭ বার ব্যর্থ হয়েও কেউ আবার লাইসেন্স পাওয়ার চেষ্টা করেন, এমন নজির হয়ত এবারই প্রথম।
বারবার চেষ্টার এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্রিটিশ নাগরিক। অবশেষে ১৫৮তম পরীক্ষার পর তিনি পেয়েছেন সাধের ড্রাইভিং লাইসেন্স। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এতবার পরীক্ষার জন্য ওই ব্যক্তিকে ব্যয় করতে হয়েছে ৩ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা)। যুক্তরাজ্যে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার পরীক্ষা দিতে সাড়ে ২৫ পাউন্ড লাগে।
যুক্তরাজ্যে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়া অন্য দেশের তুলনায় অনেকটা কঠিন। লাইসেন্স নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের শুধু গাড়ি চালিয়ে দেখালেই সনদ মেলে না। পাশাপাশি তাদের তত্ত্বীয় পরীক্ষাও দিতে হয়। এই তত্ত্বীয় পরীক্ষাকেই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখে যুক্তরাজ্য প্রশাসন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তার চেষ্টার প্রায় অধিকাংশ বারই তত্ত্বীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রায় কাছাকাছি সংখ্যকবার পরীক্ষায় বসতে হয়েছে আরেক ব্রিটিশ নারীকে। ১১৭ বার চেষ্টা করার পরে এখনো তিনি যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। আরেক ব্যক্তি সফল হয়েছেন ৭২ বারের প্রচেষ্টায়। গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেলে এত মানুষ যে দিনের পর দিন চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এই সংবাদ প্রকাশই হতো না যদি সিলেক্ট কার রেসিং নামের একটি সংস্থা ফ্রিডম অব ইনফরমেশন আইনের আওতায় সরকারের কাছে এমন তথ্য না চেয়ে আবেদন করত।
সংস্থাটির নির্বাহী প্রধান মার্ক টঙ্গু বলেন, ‘একবার চেষ্টা করে না পারলে যে বারবার চেষ্টা করে যেতে হয় এর উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তারা। পরীক্ষায় একবার কিংবা ১৫৭ বার ব্যর্থ হন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এতবার চেষ্টা যিনি করেছেন সন্দেহাতীতভাবেই তিনি বাহবা পাওয়ার যোগ্য।’
