জঙ্গিবাদের শেকড় উপড়ে ফেলতে চাই : আইজিপি

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৪৪ এএম

দেশ থেকে জঙ্গিবাদের শেকড়-বাকড় উপড়ে ফেলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। গতকাল রবিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) উদ্যোগে অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে নির্মিত সচেতনতামূলক ওভিসি ও টিভিসি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, ‘শেষ জঙ্গি নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এখানে আত্মতুষ্টির কোনো স্থান নেই। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদের শেষ শেকড়-বাকড়টিও উপড়ে ফেলতে চাই।’

জঙ্গিবাদ মহামারী করোনার মধ্যে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও সামনের সারিতে থেকে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। ভৌগোলিকসহ নানাবিধ কারণে জঙ্গিরা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশকে টার্গেট করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স ও এ দেশের শান্তিপূর্ণ মানুষের জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থানের কারণে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সফল হয়নি। হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনা বেশ নাড়া দেয়। তবে এর পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতি আমরা বেশ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি। যে নেটওয়ার্কটি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সেটিকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ডিসমেন্টাল করে দিতে পেরেছি। এমনই একটা প্রেক্ষাপটে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এটিকে একটি রোবস্ট ইউনিট হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কাছে নয় জঙ্গির আত্মসমর্পণ ঘিরে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ আছে, সব সময় নৈরাশ্যবাদী। আমি মনে করি, তাদের মানসিক চিকিৎসা দরকার। জঙ্গি আত্মসমর্পণের ঘটনায় অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলার চেষ্টা করছেন, কোথাও তো জঙ্গি নেই, আত্মসমর্পণ করল কারা? এখন জঙ্গি আছে, সেটা প্রমাণের জন্য কি তাদের বোমা ফাটাতে দেব, মানুষ হত্যার সুযোগ দেব? এমন কতশত জঙ্গি হামলার চেষ্টা আমরা সফলই হতে দিইনি।’

দেশে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই জঙ্গিবাদের গোড়াপত্তন হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশপ্রধান বলেন, ‘আমাদের পুলিশের প্রতিটি ইউনিট সাইবার পেট্রোলিং অব্যাহত রেখেছে। এ জন্য প্রতিটি ইউনিটের আলাদা সাইবার ইউনিট রয়েছে। এর ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জঙ্গিবাদবিরোধী সরব উপস্থিতি অব্যাহত রাখতে প্রতিটি ইউনিটের প্রতি অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, এন্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান মো. কামরুল আহসান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত