গাজীপুরে মিলাদ মাহফিলের গরু জবাই করতে যাওয়ায় বিলম্ব হওয়ায় মসজিদের ইমামকে জুতাপেটা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাতে শ্রীপুরের চকপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উত্তর চকপাড়া বাইতুন নুর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু সাইম এ ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
ইমামকে মারধরের অভিযোগ ওঠা রফিকুল ইসলাম রফিক (৩৫) চকপাড়া গ্রামের প্রয়াত বেলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি মাওনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর লাঞ্ছিত মুফতি আব্দুল মজিদ (৩২) শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নিজপাড়া গ্রামের মো. জাকির হোসেনের ছেলে। তিনি ওই এলাকার ফাইজুল ইসলাম স্বপনের বাড়িতে ভাড়া থেকে উত্তর চকপাড়া বাইতুন নুর জামে মসজিদে ইমামতি করার পাশাপাশি মারকাযু সুন্নাতিন্নাবী (সা.) বাংলাদেশ নামে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
ইমাম মুফতি আব্দুল মজিদ জানান, চকপাড়া গ্রামে স্বপনের বাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকের পাশের কক্ষেই তিনি পরিবারসহ ভাড়া থাকেন। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী মৃত এক ব্যক্তির মিলাদ মাহফিলের জন্য গরু জবাই করতে তাকে ডাকেন রফিক। এ সময় তিনি ঘুমিয়ে থাকায় উঠতে কিছুটা দেরি হওয়ায় পাশের কক্ষে থাকা রফিক তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে মারধরসহ জুতাপেটা করেন।
এদিকে ইমাম আব্দুল মজিদকে মারধরের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সকালে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন কয়েকশ’ মুসল্লি ও এলাকাবাসী।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হুজুরের সঙ্গে সামান্য ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। তা আমরা দুজনেই সমাধান করে ফেলেছি।’
তবে উত্তর চকপাড়া বাইতুন নুর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু সায়েম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইমামকে মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ‘ইমামকে মারধরের অভিযোগে থানায় একটি অভিযোগ জমা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
