নড়াইল পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আঞ্জুমান আরার নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিদ্রোহী প্রার্থী সরদার আলমগীর হোসেন ও তার সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের ৫জন কম-বেশি আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রার্থী আঞ্জুমান আরার মেয়ে সঞ্চিতা আহম্মেদ বাদী হয়ে ৬০ জনের নামে মামলা করেছেন। পুলিশ ৬জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আওয়ামী লীগের দুটি নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
মামলার বাদী সঞ্চিতা আহম্মেদ বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নড়াইল শহরের গোচর-দুর্গাপুর এলাকায় নৌকা প্রতীকের মিটিং ছিল। মিটিংয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরদার আলমগীর হোসেনসহ তার লোকজন মুখোমুখি হয়ে নৌকা প্রতীকের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমাদের পক্ষের অন্তত ৪ জন আহত হন।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আঞ্জুমান আরা বলেন, ‘সন্ধ্যায় হামলার ঘটনার পর গভীর রাতে পৌর এলাকার আদালতপুর ও ডুমুরতলা নির্বাচনী অফিসে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে দু’টি অফিসের চেয়ার-টেবিল, ব্যানার ও পোস্টার পুড়ে গেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নড়াইল পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (সদ্য বহিষ্কৃত) সরদার আলমগীর হোসেন দাবি করে বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমার একজন কর্মী হালিমকে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা মারধর করে আহত করে। পরে তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় আমাকেসহ আমার নেতাকর্মীদের নামে মামলা করেছে।’
মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে নড়াইল সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
আগামী ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে নড়াইল পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের আঞ্জুমান আরা, বিএনপির জুলফিকার আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী নড়াইল পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (সদ্য বহিষ্কৃত) সরদার আলমগীর হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মাওলানা খায়রুজ্জামান।
