পি কে হালদারসহ ৮৩ জনের তালিকা হাইকোর্টে উপস্থাপন

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৪৫ এএম

কানাডায় পালিয়ে থাকা এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পি কে (প্রশান্ত কুমার) হালদারসহ অর্থ পাচারে জড়িত ৮৩ জনের তালিকা এবং তাদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের প্রতিবেদন হাইকোর্টের উপস্থাপন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। ডিএজি আমিন উদ্দিন মানিক জানান, প্রতিবেদনটির ওপর শুনানি হয়েছে। পি কে হালদারের বিষয়ে রেড নোটিস জারির বিষয়েও হাইকোর্টকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার আদেশ দেবে হাইকোর্ট। ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ওই প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিল করে বলেও জানান তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ, শীর্ষ ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ও ক্রেডিট ডিভিশনের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ২ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আত্মসাৎ করা অর্থ নামে-বেনামে ভারত, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পাচার হয়েছে। এতে ৮৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাদের সব ব্যাংক হিসাবই এরই মধ্যে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, সাবেক সচিব ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান এন আই খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, পি কে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী, কাকাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক পরিচালক ইরফান উদ্দিন আহমেদসহ ২৫ ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং তারা যাতে বিদেশে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়। এ ছাড়া তদন্তের প্রয়োজনে ২৫ জনকে দুদক আইন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে বলে আদেশে বলা হয়। পি কে হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকবহির্ভূত আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ কর্র্তৃত্বে ও নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। পলাতক পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত