বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতা আছে কি না জানতে চায় হাইকোর্ট

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৫০ এএম

অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যর্থ কি না তা সংস্থাটির কাছে জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তাদের তালিকাসহ তথ্য চেয়েছে হাইকোর্ট। ওই সময় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট বিভাগ, ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন, মার্কেট ডিভিশনসহ বিভিন্ন আর্থিক বিভাগে কর্মরতদের তালিকা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। ডিএজি আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউট শাখা, ‘অভ্যন্তরীণ অডিট শাখাসহ আর্থিক খাত দেখভাল করে এমন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে ওই সময় কারা কারা দায়িত্বে ছিলেন এমন কর্মকর্তাদের নামের তালিকা ও বিস্তারিক তথ্য এবং পি কে হালদারসহ অর্থ পাচারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা আছে কি না সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।’ 

পি কে হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকবহির্ভূত আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ কর্তৃত্বে ও নিয়ন্ত্রণে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। পলাতক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি হয়েছে।

গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, সাবেক সচিব ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান এনআই খানসহ পি কে হালদার ঘনিষ্ঠ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও তারা যাতে বিদেশে যেতে না পারেন সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়। এছাড়া পি কে হালদারসহ অর্থ পাচারে জড়িত ৮৩ জনের তালিকা এবং তাদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের প্রতিবেদন গত বুধবার হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের তরফে হাইকোর্টকে জানানো হয়, এনআই খানের নাম ভুলবশত এসেছে এবং তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো অভিযোগ নেই। এর ওপর শুনানিকালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যর্থতা রয়েছে কি না এবং ওই সময়ে (২০০৮ থেকে ২০২০ সাল) কারা দায়িত্বে ছিলেন তা জানতে চায় আদালত। পাশাপাশি পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা কিংবা তাকে গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা ১০ দিনের মধ্যে দুদককে জানাতে বলা হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত