কক্সবাজারের মহেশখালী এবং বরগুনার পাথরঘাটায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবারের এ ঘটনায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে। নিহতরা হলো কক্সবাজারের মোহাম্মদ আলমগীর (৪২), মোহাম্মদ এহসান (১২) ও সাদেকুল ইসলাম রাহাত (১৩) এবং বরগুনায় শাহজাহান হোসেন সম্রাট (৫৫)। কক্সবাজার, পেকুয়া-কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) এবং বরগুনা প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ির একটি বিদ্যালয় মাঠে বেলুনে ভরা গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুই শিশুসহ তিনজন নিহত ও অন্তত ১০ স্কুলশিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের মধ্যে তিনজনের হাত ও পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মাতারবাড়ির আজিজিয়া মাদ্রাসায় বার্ষিক সভার শেষ দিন ছিল গতকাল। এ উপলক্ষে মাদ্রাসার পাশে মাতারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মেলা বসে। সেখানে বেলুন বিক্রেতা মোহাম্মদ আলমগীর বেলুনে গ্যাস ভরার সময় হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়।
মহেশখালী থানার ওসি আবদুল হাই জানান, সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মারা যায় মাতারবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ মিয়াজীপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মোহাম্মদ এহসান। একই ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার ফরিদুল আলমের ছেলে সাদেকুল ইসলাম রাহাতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং পরে চমেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বেলুন বিক্রেতা ও জেলার চকরিয়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আলমগীর।
আহত স্কুলশিক্ষার্থীদের চকরিয়া ও চমেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাতারবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহমুদ উল্লাহ। চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা সঙকটাপন্ন। এদের তিনজনের হাত ও পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও মহেশখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে বরগুনার পাথরঘাটায় বরফ কলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে শাহজাহান হোসেন সম্রাট নামে একজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার পাথরঘাটা পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লা বরফ কলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সম্রাট পিরোজপুরের পারেরহাট উপজেলার বাদুরা গ্রামের মৃত আবদুল জলিল মিয়ার ছেলে।
পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারম্যান মারুফুজ্জামান জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজের সময় দুই কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিস্ফোরণে সেখানে কর্মরত সবাই কমবেশি আহত হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা আবুল ফাতাহ জানান, অক্সিজেন সংকট থাকায় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গুরুতর আহত ১০ জনকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পরপরই বরগুনা-২ আসনের এমপি শওকত রহমান রিমন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা, পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর দেন।
