দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২২ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩ জন। সম্প্রতি মৃত্যু সামান্য কমে আসায় শেষ এক হাজার মৃত্যু হতে আগের এক হাজারের চেয়ে চার দিন সময় বেশি লেগেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৮ মার্চ ১০ম দিনে প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয়। এরপর ১০ জুন ৯৫তম দিনে মৃত্যু এক হাজার, ৫ জুলাই ১২০তম দিনে দুই হাজার, ২৮ জুলাই ১৪৩তম দিনে তিন হাজার, ২৫ আগস্ট ১৭১তম দিনে চার হাজার, ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৯তম দিনে পাঁচ হাজার, ৪ নভেম্বর ২৪২তম দিনে মৃত্যু ছয় হাজার এবং ১২ ডিসেম্বর ২৮০তম দিনে মৃত্যু সাত হাজার ছাড়ায়। গতকাল ২৩ জানুয়ারি ৩২২তম দিনে মৃত্যু আট হাজার ছাড়াল। দেখা যাচ্ছে, প্রথম এক হাজার মৃত্যু হয়েছে ৮৫ দিনে, দ্বিতীয় এক হাজার ২৫ দিনে, তৃতীয় এক হাজার ২৩ দিনে, চতুর্থ এক হাজার ২৮ দিনে, পঞ্চম এক হাজার ২৮ দিনে, ষষ্ঠ এক হাজার ৪৩ দিনে, সপ্তম এক হাজার ৩৮ দিনে এবং অষ্টম বা শেষ এক হাজার মৃত্যু হয়েছে ৪২ দিনে।
মৃত্যু আট হাজার ছাড়ানোর দিনে দেশে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত প্রায় নয় মাস পর পাঁচশোর নিচে নেমেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪৩৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ২৭২ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এরচেয়ে কম রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এ ছাড়া পরের দিন ২৭ জানুয়ারিও পাঁচশোর কম রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তারপর গতকালই প্রথমবার ২৪ ঘণ্টায় পাঁচশোর কম রোগী শনাক্ত হলো। এদিন শনাক্তের হার ফের ৪ শতাংশের নিচে নেমেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজারের বেশি পরীক্ষায় ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের এই হার দেশে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা শুরুর পর সর্বনিম্ন। এর আগে গত বছর ৪ এপ্রিল পাঁচশোরও কম পরীক্ষায় ২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়। তারপর থেকে গতকালেটিই সর্বনিম্ন শনাক্তের হার। গত বৃহস্পতিবারও চারের কম ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়।
এদিকে গত এক সপ্তাহে দেশে নতুন রোগী শনাক্ত কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শেষ এক সপ্তাহে (১৭-২৩ জানুয়ারি) দেশে ৯৭ হাজার ৩৮২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪ হাজার ২৬৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের সপ্তাহে ৯৯ হাজার ৬০৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৫ হাজার ৬৮১ জন। শেষ সপ্তাহে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১২০ জন, আর আগের সপ্তাহে মারা গিয়েছিল ১২৭ জন। অর্থাৎ শেষ সপ্তাহে মৃত্যু কমেছে শতকরা ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ ছাড়া শেষ সপ্তাহে সুস্থ কমেছে প্রায় ২৭ শতাংশ।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ৩২২তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২০০ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৮টি জিন-এক্সপার্ট, ৫৬টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৬টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১১ হাজার ৭ জনের নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১১ হাজার ১১৫ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৩৩৮ রোগী সুস্থ হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৮৯টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ৩১ হাজার ৩২৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৮ হাজার ৩ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮৯৯ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫১ এবং সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৭ ও নারী ৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮, চট্টগ্রামে ৩ এবং বরিশালে ১ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৩, ৫১-৬০ বছরের ৬, ৩১-৪০ বছরের ১, ২১-৩০ বছরের ১ এবং ১১-২০ বছরের ছিল ১ জন। ২২ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৬৪ ও নারী ১ হাজার ৯৩৯ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৭৭ ও নারী ২৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৫২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪৬৬, খুলনায় ৫৪৫, রাজশাহীতে ৪৫৬, রংপুরে ৩৫৫, সিলেটে ৩০১, বরিশালে ২৪১ ও সর্বনিম্ন ১৮৭ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৭ রোগীকে আইসোলেশনে ও ২১২ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১০ হাজার ৭৬২ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৫ হাজার ৮৪৬ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৩৮১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৮৬০টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৯৮টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ২১৮টিতে।
