টাঙ্গাইলে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর দখলে থাকা সরকারি জমি উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া ৬৬ শতাংশ পরিমাণের ওই জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি। গতকাল রবিবার সকালে টাঙ্গাইল পৌরসভার আকুরটাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোজলিন শহীদ চৌধুরী ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খাইরুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই অভিযান চালানো হয়।
এলাকাবাসী জানায়, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুরপাড়া মৌজায় ১৯৭২ সালে ২৪২ খতিয়ানের ৭৮৮ দাগে ৬৬ শতাংশ জমিটি লিজ নিয়ে ভোগ করে আসছিলেন। পরে তিনি ওই জমিতে মার্কেট নির্মাণ করেন। তবে ওই সময় থেকে আজ অবধি মার্কেটটি চালু করতে পারেননি। এরপর তিনি জমিটির নিজের নামে কাগজ তৈরি করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোজলিন শহীদ চৌধুরী বলেন, শহরের আকুরটাকুরপাড়া মৌজায় ২৪২ খতিয়ানের ৭৮৮ দাগে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের ৬৬ শতাংশ জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ভুয়া কাগজ তৈরি করে ভোগদখল করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে মামলা হলে উচ্চ আদালত লতিফ সিদ্দিকীর জাল দলিল বাতিল করে সরকারের পক্ষে রায় দেয়। পরে জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে দখলে থাকা ৬৬ শতাংশ জমির স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উদ্ধার করা জমিটি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদের সময় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) আয়নাল উপস্থিত থেকে তাদের মালামাল সরিয়ে নেন বলেও জানান এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
