কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছে বলে অভিযোগ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, গত এক সপ্তাহে নগরীর বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি সাজানো মামলা দিয়েছে। এসব মামলায় এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৬৯ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। নারী-শিশু কেউ গ্রেপ্তার থেকে বাদ যাচ্ছে না। নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সোমবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
নগরীর নুর আহমদ সড়কের নাসিমন ভবনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) সিইসি এসেছিলেন। ওনার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আশা করেছিলাম। আওয়ামী লীগের মধ্যে মারামারিতে তিনজন নিহত হয়েছে, আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে, আমার গাড়িতে হামলা হয়েছে, প্রচারণা গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে, নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হয়রানি চলছে এসব বিষয়ে সিইসি বক্তব্য দেবেন বলে আশা করেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তাকে আমরা এ পর্যন্ত ৪০টি অভিযোগ দিয়েছি। এসবের কোনো সমাধান হয়নি। গত সাত দিন ধরে যেসব মিথ্যা মামলা হয়েছে, এ মিথ্যা মামলায় যাতে গ্রেপ্তার করা না হয়, তাদের যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা না হয়, সেজন্য কমিশনকে বলেছি। আমাদের দাবি, এসব মামলা প্রত্যাহার করা হোক। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।’
নির্বাচনে ইভিএমের ব্যালট প্যানেলের সুরক্ষা চেয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘ইতিপূর্বে দেখা গেছে ইভিএমের কাছে সন্ত্রাসী-মাস্তানরা অবস্থান নিয়ে ইচ্ছেমতো ভোট দিয়েছে। আমাদের এজেন্টদের বের করা দেওয়া হয়। এবার আমরা নির্বাচন কমিশনে ৯ দফা দাবি দিয়েছি। সেখানে আমরা বলেছি, পোলিং এজেন্টরা নির্বাচন কমিশনের অংশ, তাই তাদের সুরক্ষা যেন নিশ্চিত করা হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল, নাগরিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল করিম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, এমএ আজিজ, সাইফুল আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলন শেষে গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের তালিকা নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান মেয়র প্রার্থী শাহাদাত। তিনি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে আসুন : নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘বিএনপি দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম ও জনপ্রিয় দল হিসেবে জনগণের প্রতি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা থেকে চসিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। চট্টগ্রামের জনগণের প্রত্যাশা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। বিএনপিরও প্রত্যাশা সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নেতা, মন্ত্রী-এমপিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে। আমি নগরবাসীকে সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
গতকাল দিনব্যাপী জামালখান, এনায়েত বাজার ও আলকরণ ওয়ার্ডে গণসংযোগ চলাকালে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শাহাদাত বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারণায় আমি যে এলাকায় গিয়েছি, বিএনপির প্রতি, ধানের শীষের প্রতি সাধারণ মানুষের জোয়ার দেখেছি। সেই জোয়ার দেখে আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী-এমপিদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় দলবাজ, অতি উৎসাহী কর্মকর্তা এবং নিজেদের দলের গু-া-মাস্তানদের লেলিয়ে দিয়েছে।’
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের হারাবার কিছু নেই। মামলা-হামলা, গুম-খুন গত ১৪ বছর ধরে আমরা মোকাবিলা করে আসছি। শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে আমাদের ভোটকেন্দ্রে থাকতে হবে। মানুষের রায় যাতে কেউ ছিনতাই করতে না পারে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।’
