রামেকে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নার্সকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২:১৩ এএম

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নার্সকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মামুন-অর-রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানেসথেসিয়ার ওপর ডিপ্লোমা করছেন। সেখান থেকেই কোর্স সম্পন্ন করতে এসেছেন রামেক হাসপাতালে। এর আগে ডা. মামুন ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস শেষ করেন। এরপর চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন। সেখান থেকে ছুটি নিয়ে এখন অ্যানেসথেসিয়া কোর্স করছেন। রামেক হাসপাতালে এসে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগমতে সেখানেই গত ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি যৌন হয়রানির ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। পরদিন তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।

অভিযোগমতে গত ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে আইসিইউতে ডা. মামুনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া একজন নার্স (২৫)। ডা. মামুন তখন হাতের কনুই দিয়ে ওই নার্সের স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত করেন। সেদিন বিষয়টি টের পেলেও চুপ করে থাকেন ওই নার্স। পরদিন ওই নার্স ডা. মামুনকে এনজি টিউব দিচ্ছিলেন। তখন ডা. মামুন তার হাত ধরেন। ওই নার্স দ্রুত সরে রিসিপশনে গিয়ে বসেন। এ সময় পেছন থেকে গিয়ে ডা. মামুন তার পিঠে এবং স্পর্শকাতর অঙ্গে স্পর্শ করেন। ক্রমাগত এমন যৌন হয়রানির শিকার হয়ে ওই নার্স তার এক সহকর্মীকে বিষয়টি জানান। এরপর তিনি বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের রামেক হাসপাতাল শাখার সভাপতি শাহাদাতুন নূর লাকি ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ খলিলুর রহমানকে বিস্তারিত জানান। নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের ওই দুই নেতা সেদিনই আইসিইউতে ডা. মামুনের কাছে যান। তারা মামুনের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। ডা. মামুন তখন তাদের কাছে ‘সরি’ বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘সরি’ কথাটি হাসপাতাল পরিচালকের কাছে গিয়েও বলতে চান। এরপর তারা সবাই হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে যান। সেখানে নার্সরা ডা. মামুনের এমন আচরণের বিষয়টি হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানীকে জানান। তখন ডা. মামুনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার দোষ স্বীকার করেন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে ডা. মামুনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন হাসপাতাল পরিচালক। একইসঙ্গে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন তিনি।

তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. হাবিবুল্লা সরকার। কমিটিতে একজন নার্সকে রাখা হয়েছে। বাকি চারজনই চিকিৎসক। নার্সদের অভিযোগ, তারা এখন ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন গতকাল সোমবার দুপুরে জরুরি সভা করে। অভিযুক্ত চিকিৎসককে অব্যাহতি দেওয়া হলে তারা কর্মসূচি হাতে নেবেন বলে সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের রামেক হাসপাতাল শাখার সভাপতি শাহাদাতুন নূর লাকি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখানেই আমরা চাকরি করি। এখানেই একটা ঘটনা ঘটেছে। কী হচ্ছে সেটা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আপাতত এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

রামেক হাসপাতালের নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট আনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘এরকম কথা আমি শুনেছি।’

অন্যদিকে আইসিইউ’র ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘যৌন হয়রানির একটা ঘটনা ঘটেছে বলে আমিও শুনেছি। সেদিন আমি ছুটিতে ছিলাম। তাই সত্য-মিথ্যা বলতে পারব না।’

আর অভিযুক্ত চিকিৎসক মামুন-অর-রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটা সমস্যা হয়েছে। সেটা তো অনেক রকমই হতে পারে। এ বিষয়ে আমি আর কী বলব! স্যাররা তদন্ত করে দেখছেন। তাদের সঙ্গে কথা বললেই ভালো হয়।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘এটা ছোটখাটো একটা ঘটনা। আমি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। আজ (গতকাল সোমবার) রিপোর্ট আসার কথা ছিল। তবে তা পাইনি। অভিযুক্ত চিকিৎসককে ২০ তারিখ থেকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত