সংসদে তামাক আইন সংশোধন করে উচ্চ করারোপের দাবি

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২:১৪ এএম

দেশের বর্তমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও তামাকজাত পণ্যে উচ্চ কর আরোপের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। গতকাল সোমবার সংসদ অধিবেশন চলাকালে এই দাবি তোলেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত। এ জন্য তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের দাবি জানান।

সাংসদ হাবিবে মিল্লাত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ জন্য বর্তমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধন দরকার। তামাকের ওপর এমনভাবে কর আরোপ করা দরকার যেন আমরা আমাদের তরুণ সমাজকে এর থেকে দূরে রাখতে পারি।’

আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে কিছু প্রস্তাব উত্থাপন করে তিনি বলেন, বর্তমান আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে ছয়টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্তসহ সব পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা; বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি’ বা সিএসআর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা; বিড়ি-সিগারেট খুচরা শলাকা এবং প্যাকেটবিহীন জর্দা-গুল বিক্রি নিষিদ্ধ করা; ই-সিগারেট এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসের (এইচটিপি) মতো ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং সবশেষে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার বৃদ্ধিসহ তামাকপণ্য মোড়কজাতকরণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা।

গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ২০১৭ তথ্যানুসারে বাংলাদেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করে। সারা বিশ্বে তামাক উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ৮ম। হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের কারণ তামাক। টোব্যাকো এটলাস ২০২০ অনুযায়ী, প্রতি বছর তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এ বিষয়ক রোগব্যাধি, চিকিৎসা ব্যয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৪ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত