শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি শুরু

এ বছর এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৩১ এএম

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে ধরে নিয়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি এক নির্দেশনা দিয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এ প্রস্তুতি শেষ করতে বলা হয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ধোয়া-মোছার কাজ শুরু করেছে। রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, করোনা মহামারীর কারণে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষাসহ সব ধরনের পরীক্ষা নিতে না পারলেও চলতি বছর সব পাবলিক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। আর সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, অটোপাস নিয়ে সংসদে পাস হওয়া বিল তিনটিতে সই করেছে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয় গত ২৩ জানুয়ারি। এরপর গতকাল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে একই ধরনের একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনাগুলোতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলবে তার গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা নিজ উদ্যোগে ইতিমধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠানে ধোয়া-মোছার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধানমণ্ডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। রাজধানীর বাইরের সব জেলা শহরেও শুরু হয়েছে এই প্রস্তুতি পর্ব।

প্রতিষ্ঠান খোলার গাইডলাইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দুই মাসের মধ্যে কোনো পরীক্ষা নিতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের সময় সবার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা, শিক্ষার্থীরা যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলাফেরা করতে পারে এর ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বেঞ্চের দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুটের কম হলে প্রতি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থী বসতে পারবে। যদি বেঞ্চের দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুট বা তার বেশি হয়, তবে প্রতিটি বেঞ্চে দুজন করে ছয়টি বেঞ্চে ১২ জন শিক্ষার্থী বসতে পারবে। এসব নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলগুলো প্রস্তুত করছেন প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা।

প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা বলছেন, সরকার যেভাবে প্রস্তুতি নিতে বলেছে সেভাবেই প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হবে, যেদিন খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসবে সেদিনই খুলে দেওয়া হবে।

রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বাস্থ্যবিধি মানতে যা যা করণীয় তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানে।’

যশোর শহরের ইসলামিয়া গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাউশি থেকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে। আমরা সে নির্দেশনা মতোই প্রস্তুতি নিচ্ছি। সব শিক্ষক-কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। স্কুলের ক্লাসরুম, অফিস কক্ষসহ সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। এরপর সরকার যেদিন খুলে দেওয়ার কথা বলবে আমরা সেদিন খুলে দেব।’

এ বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে : চলতি বছর আর অটোপাস নয় বরং এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য তিন থেকে চার মাসে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে এমন একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। যার ভিত্তিতে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা হবে। তার আগে শিক্ষার্থীরা তিন-চার মাস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে। গতকাল অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী এক ভার্চুয়াল সভায় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোনোরকম স্বাস্থ্যবিধি না মেনে আপনারা যেভাবে আন্দোলন করছেন এ ক্ষেত্রে বরং করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সবরকমের স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। সুতরাং আপনাদের এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল কিন্তু সে সময় সংক্রমণের হার বেশি থাকায় সরকার তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অটোপাসের চিন্তা করেছে। কিন্তু ২০২১ সালে যারা পরীক্ষার্থী তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তারা তো তেমন প্রস্তুতি নিতে পারেনি। সুতরাং তাদের অটোপাস দেওয়া সম্ভব নয়। সংক্রমণের হারও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

এইচএসসির ফল প্রকাশ যেকোনো দিন, বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি : সংসদে বিল পাসের মধ্য দিয়ে ২০২০ সালের এইচএসসির ফল প্রকাশের বাধা দূর করা হয়েছে। গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংসদে এ সংক্রান্ত তিনটি বিল প্রস্তাব করার পর কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। গতকাল সোমবার তিনটি বিলেই সই করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’ ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’, ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’-এ রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেন বলে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর এবার সংসদে পাস হওয়া বিলগুলো আইন হিসেবে গেজেট করবে সরকার। আর গেজেট প্রকাশ হলেই ফল ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত