কুয়েতের কারাগারে বন্দি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সম্পদের হিসাব চেয়ে কুয়েতে নোটিস পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ওই নোটিস কুয়েতের কারাগারে পাপুলের কাছে পাঠানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রণব বলেন, ‘অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের ৬ জুন কুয়েতের সিআইডি পাপুলকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কুয়েতের কারাগারে আছেন। গত বছরের ১১ নভেম্বর দুদক পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে ১৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা করে। ওই মামলার তদন্ত ও পাপুলের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কুয়েতের কারাগারে থাকা পাপুলের সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়। কমিশনের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ইতিমধ্যে কুয়েত সরকারের মাধ্যমে পাপুলকে নোটিস পাঠিয়েছেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, পাপুলের বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ সম্পদ এবং অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগ তদন্ত করছেন দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়ায় তার কাছে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস পাঠায় সংস্থাটি। পাপুলের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়ায় দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন কুয়েতে তার সম্পদের নোটিস পাঠানোর জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করেন। কমিশনের অনুমতির পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কুয়েত দূতাবাসের মাধ্যমে তার কাছে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস পাঠানো হয়।
গত ১১ নভেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাপুলের বিরুদ্ধে মানব পাচারসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত উপায়ে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ইতিমধ্যে পাপুল ও তার স্ত্রীসহ চারজনের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং ৯২টি তফসিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে।
