প্রকল্পে অর্থ অপচয়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:৩৬ এএম

দেশের ৯৪ উপজেলায় ১৩০টি সেতু নির্মাণের প্রকল্পে গাফিলতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে প্রকল্প তৈরিতে ভুল ও অর্থ অপচয়কারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কাদের গাফিলতির কারণে প্রকল্পের নকশায় ভুল হলো, সময় বেশি লাগছে, অর্থের অপচয় হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করুন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন।

গতকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পে সংশোধনী উপস্থাপন করা হলে ক্ষুব্ধ এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

চার বছর আগে ৩ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা খরচে দেশের ৯৪ উপজেলায় ১৩০টি সেতু নির্মাণের একটি প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়া অনুমোদন পাওয়া সেতুগুলোর কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সেতুগুলোর সমীক্ষা শেষ করার পর দেখা গেল, প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৬ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পটি কাদের কারণে সরকারের এতগুলো টাকা অপচয় হচ্ছে, তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, জনপ্রতিনিধিদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ২০১৭ সালে ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। চার বছর পর প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ১৭ শতাংশ। সমীক্ষা না করে সেতুর কাজ শুরু করায় এখন সরকারের গচ্চা যাচ্ছে ২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। শতাংশের হিসাবে ব্যয় বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। এই ১৩০টি সেতু নিয়ে গত ২০ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকল্পটি আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর সময় বাড়িয়ে ২০২৪ পর্যন্ত করা হচ্ছে।

গতকাল একনেক সভায় প্রকল্পটি সংশোধিত আকারে অনুমোদনের জন্য উত্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, যখন প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছিল, তখন কেন সমীক্ষা করা হয়নি। তখন কেন এসব বিষয় দেখা হয়নি? আপনারা কি প্রকল্প এলাকায় যাননি? নতুন নতুন সেতু কীভাবে যোগ হচ্ছে এই প্রকল্পে? গণভবন থেকে ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক বৈঠক শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কারা কারা এই প্রকল্পের নকশা করেছেন, কাজের অর্ডার দিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করেন। কাদের গাফিলতির কারণে প্রকল্পের নকশায় ভুল হলো, সময় বেশি লাগছে, অর্থের অপচয় হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করুন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন। এ ধরনের কাজ আগামীতে যাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সাবধান হওয়ার কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এসব পর্যবেক্ষণ কেন আসে। আমরা তো সবাই সমান। তাহলে কেন আমাদের মাথা থেকে এসব বিষয় আসবে না। আমাদের কাছে যখন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়, সবাই তাগিদ দেন, তাড়াতাড়ি করার জন্য। তাড়াতাড়ি করতে গেলে এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

সরকারি টাকা এভাবে অপচয়ের পেছনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় দায় এড়াতে পারে কি না, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অস্বীকার করছি না। আমাদেরও দায় আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা খুঁজে বের করেন, কাদের কারণে এই প্রকল্পের খরচ ও সময় দুটোই বাড়ল। তাদের বিরুদ্ধে শুধু ব্যবস্থাই নয়, কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানানোর নির্দেশও দিয়েছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী আরেকটি ভয়াবহ বিষয় তুলে ধরেছেন। সেটি হলো এক কর্মকর্তা একাধিক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, একজন কর্মকর্তা একটি প্রকল্পের পিডি হবেন। কিছুতেই একজন কর্মকর্তাকে একের অধিক প্রকল্পের পিডি হিসেবে সহ্য করা হবে না। যারা একের অধিক প্রকল্পে পিডি আছেন, তাদের সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেকে ১১,৩২৪ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

গতকাল একনেক সভায় ১১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট আটটি প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ হবে ৫ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। বাকি টাকা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরের উন্নয়ন, টাঙ্গাইল জেলার ১০টি পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন, ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে যানবাহন চালনা প্রশিক্ষণ, ৪২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত