চারুশিল্পী, সাংবাদিক, গবেষক ও লেখক,নাট্য সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ লুৎফুল হক গত ২৭ই জানুয়ারি পরলোকগমন করেন। সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় তার পদচারণা ছিলে। মঞ্চ নাটকের সাথে যুক্ত ছিলেন ১৯৭৭ সাল থেকে, তিনি নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তীতে দলটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এই নাট্য সংগঠন তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একডেমির সেমিনার কক্ষে বিকেল ৪ টায় আয়োজন করছে স্মরণ অনুষ্ঠান।
আয়োজনটি নিয়ে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক আ মা ম হাসানুজামান বলেন, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সৈয়দ লুৎফুল হক ছিলেন প্রচারবিমুখ একজন মানুষ। তার বর্ণিল জীবনে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন কিন্ত প্রচারের আলোয় তিনি আসতেন না, থাকতেন আড়ালে। লোকটি প্রাণ খুলে হাসতে পারতেন,সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন। তিনি নান্দনিকের জন্য কাজ করেছেন অগাধ ভালোবাসায়।স্মরণ অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি অঙ্গনের বিভিন্ন শাখার তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন এবং তাকে নিয়ে আলোচনা করবেন।
১৯৬৮ সালে দৈনিক ইত্তেফাক দিয়ে সৈয়দ লুৎফুল হক সাংবাদিকতা শুরু করেন। দীর্ঘ সময় তিনি দৈনিক বাংলা, সাপ্তাহিক বিচিত্রা, দৈনিক বাংলা-বিচিত্রা, দ্য টাইমসসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। তার সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।শিল্পকলা বিষয়ে ১০টি বইসহ ১৫টি গ্রন্থ রয়েছে। লুৎফুল হকের লেখা আরো তিনটি বই এ বছর একুশে বইমেলায় প্রকাশের অপেক্ষায় ছিল। গবেষণায় স্বাচ্ছন্দ্য লুৎফুল হক দেশের একজন স্বনামধন্য চিত্রকর ও প্রচ্ছদশিল্পী। তার উল্লেখ্যযোগ্য প্রকাশনা হল সংবাদপত্রের ডিজাইন, দশ দিগন্তের দশ বাসিন্দা।তিনি বেশকিছু কালজয়ী চলচ্চিত্রের শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন |
তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদক, অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক, নীপা পদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব লেখক সম্মাননা পদক পান।
