রংপুরের পীরগাছায় এক তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে আসামি শফিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২-এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুকে আসামি শফিকুলের ছেলে হিসেবে স্বীকৃতির পাশাপাশি তার উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুটির ভরণপোষণের ব্যয়ভার আসামির সম্পদ বিক্রি করে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আসামি শফিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পীরগাছার অন্নদানগর ইউনিয়নের সাতদরগাহ হরিচরণ গ্রামের মজিবরের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, অন্নদানগর ইউনিয়নের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ করেন শফিকুল। ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবরের ওই ঘটনায় কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শফিকুল গর্ভপাত করার কথা বলেন। কিন্তু কিশোরী রাজি না হওয়ায় শফিকুল তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি তার গর্ভের সন্তানকেও অস্বীকার করেন। পরে ২০০৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে শফিকুল এবং তার বাবা, চাচা ও ফুফুকে আসামি করে মামলা করে কিশোরী। এরপর ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেয় ওই কিশোরী। পরে আদালতের নির্দেশে শিশুটি এবং ধর্ষক শফিকুলের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় শফিকুল শিশুটির বাবা বলে প্রমাণিত হয়। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মামলাটির বিচারে রাষ্ট্রপক্ষে ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল শফিকুলকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করে আদালত।
সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন জানান, মামলার অপর দুই আসামিকে খালাসের রায় দিয়েছে আদালত। আর আসামির বাবা মামলার বিচার চলাকালে মারা যান।
পিপি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আদালত ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে সন্তানের স্বীকৃতি এবং তার ভরণপোষণের জন্য সম্পদ বিক্রি করার আদেশ দেওয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী জহুরুল ইসলাম।
