আলজাজিরার সঙ্গে খালেদা জিয়া, তারেকের সম্পর্ক থাকবে এটাই স্বাভাবিক: খালিদ

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৭:০৩ পিএম

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার অপপ্রচার নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ বিচলিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।  বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়নঃ গণমাধ্যম ভূমিকা’ শীর্ষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম এর সভাপতি শামীম সিদ্দিকী’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চোধুরী, ডেইলি অবজারভার এর সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাত আলম তপু, বিএফইউজে-বাংলাদেশ সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূইয়া, সংগঠনের সহসভাপতি লাবণ্য ভূইয়া প্রমুখ।

খালিদ মাহমুদ বলেন, তথাকথিত অপপ্রচার নিয়ে আমাদের বিরোধী দল বিএনপি যে ভাষায় কথা বলছে, তা আসলে কোনো রাজনৈতিক ভাষা নয়। তারা আলজাজিরাকে সমর্থন করছে। আলজাজিরা কারা? তারা লাদেনের মতো সন্ত্রাসীর সাক্ষাৎকার ছাপিয়ে গণমাধ্যমের নীতি নিয়ে বাণিজ্য করেছে। আলজাজিরার সঙ্গে সন্ত্রাসী লাদেনের সম্পর্ক থাকবে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে, জঙ্গি শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাইদের সম্পর্ক থাকবে, দণ্ডিত তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়ার সম্পর্ক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এতে বাংলাদেশের মানুষ বা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচলিত নন। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কথা যেন উচ্চারিত না হয় সেজন্য জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছিলেন। একাত্তরের অপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছেন, রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করেছেন, দালাল আইন বাতিল করেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের নিয়ে দেশ পরিচালনা করেছেন। একই ধারায় খালেদা জিয়াও এগিয়েছেন, কিন্তু পারেননি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধ্বংস করতে পারেননি, আর পারবেনও না।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী  বলেন, বার্গম্যান বাংলাদেশ বিরোধী কার্যক্রমের জন্য মনে হয় বাংলাদেশের একটা অথরিটি। এক সময় নিজামী-মুজাহিদ-সাইদীর ছেলেরা বিদেশে ছিল নাম পদবী নিয়ে, তারা ছিল বাংলাদেশ বিরোধী অথরিটি। লন্ডনে চৌধুরী মঈন উদ্দিন ছিল বাংলাদেশ বিরোধী অথরিটি। এখন ব্যারিস্টার রাজ্জাক গেছেন, এখন হয়েছেন বার্গম্যান। সাদা চামড়া বলে অথরিটি নাকি আরো বেশি। একটা মনগড়া বক্তব্য দিয়ে দিল, হয়ে গেল? আলজাজিরা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তো একটা রিপোর্টও করলে না। আলজাজিরা তার পরবর্তী কোনো কিছুতেই রিপোর্ট করলো না। অথচ এখন প্রতিবেদন করছে। সে সময়ে কি কোনো দুর্নীতি হয়নি? 

সভায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, দেশের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। এমন সময় আলজাজিরার যে সংবাদ পরিবেশন, সেটি প্রমাণ করে—আমাদের কিছু কিছু গণমাধ্যম দেশের এবং দেশের বাইরের আমাদের উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে সচেষ্ট আছে। সেখানে বস্তুনিষ্ঠভাবে এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্যে, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে অব্যাহত রাখার জন্য, মৌলবাদী এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিকে অবদিমত করার জন্য গণমাধ্যম তার ভূমিকা পালন করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত