ঝিনাইদহের বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে ১২

পরীক্ষা শেষ করে বাড়িতে ফিরল ৫ শিক্ষার্থীর লাশ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:৪৪ এএম

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে সড়কে উল্টে যাওয়া ট্রাকের ধাক্কায় আহত আরও একজন নিহত হয়েছে। এই নিয়ে ১২ জন প্রাণ হারালেন। গত বুধবার ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই ছিল যশোর এমএম কলেজের মাস্টার্স শেষবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শিক্ষা জীবনের শেষ পরীক্ষা দিয়ে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। তারা হলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের রণজিত দাসের ছেলে সনাতন দাশ (২৫), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে রেশমা (২৬), কোটচাঁদপুর উপজেলার হরিণদিয়া গ্রামের হারুন অর রশিদ সোহাগ (২৫), কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মুস্তাফিজুর রহমান কল্লোল (২৪), সদর উপজেলার নাথকু-ু গ্রামের ইউনুস আলী (২৬)।

কালীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাটপাড়া গ্রামের সনাতন দাশের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর পরিবার। বাবা রণজিৎ দাস বলেন, ‘কষ্ট করে ছেলের পড়ালেখার খরচ চালিয়েছি। একদিন সে চাকরি করে সংসারের অভাব ঘোচাবে।’

একই উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের নিহত মুস্তাফিজুর রহমানের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। বড় ভাই নাসের উদ্দীন  বলেন, ‘বড় আশা করে তাকে লেখাপড়া শেখানো হয়েছে। চালকের অসাবধানতায় বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তার।’

বারোবাজার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ মেসবাউল হক জানান, তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারেন বাসটি বেপরোগতিতে চালানো হচ্ছিল। একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় উল্টে যায়। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক বাসের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে বাসটি ভেঙেচুরে যায় ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। বাসটির ফিটনেস সার্টিফিকেট আছে কি না তা খোঁজ করা হচ্ছে। মালিককে খোঁজ করা হচ্ছে। এদিকে নিহতদের বাড়িতে বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি। অসহায় পরিবারগুলোর সহযোগিতার পাশাপাশি সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল বন্ধের আহ্বান স্বজন ও এলাকাবাসীর।

বুধবার বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে জে কে পরিবহন যশোর থেকে ঝিনাইদহগামী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে পড়ে যায়। পরে বিপরীত থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যায়। আহত হন অন্তত ২০ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত