হিলি স্থলবন্দরে চাল আমদানি ও দাম বেড়েছে

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:৪০ এএম

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে পণ্যটির দাম।

শনিবার বন্দর এলাকায় স্বর্ণা জাতের চাল পাইকারিতে ৪০ থেকে বেড়ে ৪২, ব্রি-২৮ ৪৪ থেকে বেড়ে ৪৭, শম্পা ৫৪ থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরায়ও একই হারে দাম বেড়েছে, যা পাইকারি দামের চেয়ে কেজিতে ১-২ টাকা বেশি। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ভারত অংশে তীব্র যানজটের কারণে আমদানিতে ধীরগতি চলছে। পুরোদমে আমদানি শুরু করা গেলে স্থানীয় বাজারে দাম কিছুটা কমবে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই বন্দর দিয়ে সবশেষ ২০১৭ সালে চাল আমদানি হয়েছিল। দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ২০১৮ সালে সরকার চাল আমদানিতে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কারোপ করলে ২০১৯ সালের ৩০ মে থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বরের পর থেকে দেশে চালের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে এনে বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেয়। প্রায় দেড় বছর পর গত ৯ জানুয়ারি থেকে ওই বন্দর দিয়ে চাল আমদানির কার্যক্রম শুরু হয়।

হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নজরুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে চাল আসার পর কেজিতে ৪-৫ টাকা দাম কমে গিয়েছিল। আজকে আবার বেড়ে গেছে। আমাদের মতো কম আয়ের মানুষের জন্য চালের দাম বাড়া খুবই কষ্টকর।

ভ্যানচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছিলাম ভারত থেকে চাল আমদানি হওয়ার ফলে চালের দাম কমে আসবে। আমরা গরিব মানুষ কম দামে চাল কিনতে পারব। কিন্তু বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হলেও চালের দাম কমবে কি আরও বাড়ছে। সারা দিন ভ্যান চালিয়ে যে আয় ইনকাম হয় তাতে করে এত দাম দিয়ে চাল কিনে খাওয়া কঠিন ব্যাপার হয়েছে।

হিলি বাজারের চাল বিক্রেতা তপন কুমার বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হওয়ার পরে চালের বাজার কমতির দিকে ছিল। বর্তমানে বন্দর দিয়ে চাহিদামতো চাল আমদানি না হওয়ায় আবারও দাম বেড়েছে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, কিছু চালবাহী ট্রাক বন্দর দিয়ে প্রবেশ করেছে। তবে ভারতের অভ্যন্তরে তীব্র যানজটের কারণে অনেক ট্রাকই আটকে আছে। এ জন্য আমরা চাহিদামতো চাল আমদানি করতে পারছি না। এক লাখ টনের বেশি চালের এলসি (ঋণপত্র) দেওয়া রয়েছে। আশা করছি যানজটসহ অন্যান্য সমস্যা কেটে গেলে পর্যাপ্ত চাল আমদানি হবে, এতে করে দাম কমবে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, সরকারের নির্দেশনা ও বন্দর কতৃ©পক্ষের সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে বন্দর দিয়ে আগে যেখানে ৩০-৩৫ ট্রাক চাল আমদানি হতো। এখন তা বেড়ে ৪৫-৫০ ট্রাকে পৌঁছেছে। গত ৯ জানুয়ারি থেকে আজ (শনিবার) পর্যন্ত ৩৫৪টি ট্রাকে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ টন চাল আমদানি হয়েছে। বন্দরে পৌঁছা মাত্রই চাল খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত