করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পুঁজিবাজারে ভয়াবহ দরপতন দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে দিয়ে গত বছর মার্চে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফ্লোর প্রাইস নিয়ে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে কোম্পানির বোনাস লভ্যাংশ ও রাইট শেয়ার ইস্যুর পরও ফ্লোর প্রাইসের কারণে প্রকৃত দর সমন্বয় হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ফ্লোর প্রাইস রিভিউ করা হতে পারে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) সূত্রে জানা গেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যে ফ্লোর প্রাইস রয়েছে তা বহাল থাকবে। তবে কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করলে কিংবা রাইট শেয়ার ইস্যু করলে সে ক্ষেত্রে দর সমন্বয় হবে। আর সমন্বয়ের পর যে দর নির্ধারণ হবে তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রাইস ফ্লোর হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানের ফ্লোর প্রাইসের শুধু এ অংশটি রিভিউ হবে।
ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণের ক্ষেত্রে গত বছর ২২ মার্চের আগের পাঁচ দিনের গড় বাজারমূল্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। তালিকাভুক্ত সব সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রেই এ দর বেঁধে দেওয়া আছে, যার নিচে কোনো শেয়ারের দাম নামবে না।
বর্তমানে অন্তত ৯২টি সিকিউরিটিজ ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে। প্রায় ১১ মাস আগে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হলেও বর্তমানে ৯২টি কোম্পানির মধ্যে অধিকাংশেরই কোনো লেনদেন হচ্ছে না। ক্রেতা না থাকায় দিনের পর দিন এসব শেয়ারের দর অপরিবর্তিত থাকছে। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে রয়েছে। তারল্যের বাজারে বিনিয়োগকারীরা চাইলেও এসব শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ হিসেবে বোনাস ঘোষণা করেছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে দর সমন্বয় না হওয়ায় ক্রেতা সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
এর আগে কয়েকটি কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ ও রাইট শেয়ার ইস্যু করলেও ফ্লোর প্রাইসের কারণে প্রকৃত দর সমন্বয় হয়নি। এতে করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতা সংকট তৈরি হয়। এসব কোম্পানি নিয়ে তেমন আলোচনা না হলেও সম্প্রতি বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেডের (বিএটিবিসি) ২০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ইস্যুর কারণে নতুন করে ফ্লোর প্রাইসের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। লভ্যাংশ ঘোষণার পর গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর কিছুটা কমে ১ হাজার ৫৯৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফ্লোর প্রাইস না থাকলে রেকর্ড ডেটে যদি গতকালের দর থাকে, তাহলে এর সমন্বিত দর হওয়ার কথা ৫৩৩ টাকা। কিন্তু কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করা আছে ৯০৭ টাকা ৬০ পয়সা। ফ্লোর প্রাইস রিভিউ না হলে কোম্পানির শেয়ারধারীরা অস্বাভাবিক মুনাফা পাবেন। যদিও ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা আরও ৯২টি কোম্পানির মতো বিএটিবিসির শেয়ারেও কোনো ক্রেতা পাওয়া কঠিন হবে।
গত বছর ফ্লোর প্রাইস আরোপের পর মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারিজ ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে। রেকর্ড ডেটের পর কোম্পানির বোনাস লভ্যাংশ সমন্বয়ের কথা থাকলেও ফ্লোর প্রাইসের কারণে তা সম্ভব হয়নি। দর সমন্বয় না হওয়ায় বর্তমানে এ কোম্পানির শেয়ারের কোনো ক্রেতা নেই। প্রকৌশল খাতের ন্যাশনাল পলিমার প্রতি একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি করে রাইট শেয়ার ইস্যু করে। রাইট শেয়ার যোগ হওয়ার পর মূল্য সমন্বয় হওয়ার কথা ছিল ৪৩ টাকা ৩০ পয়সা। কিন্তু এ শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ঠিক করা আছে ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা। প্রকৃত দর সমন্বয় না হওয়ায় এ শেয়ারটিও ক্রেতা সংকটে পড়েছে। রাইট শেয়ার ইস্যুর পর বীমা খাতের কোম্পানি প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারও একই পরিণতির মধ্যে পড়েছে।
