করোনা মহামারীর মধ্যে ব্যাংকের ভিড় এড়াতে অনেকেই ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেন। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় ২০২০ সালে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক ও লেনদেন দুটোই বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বেড়েছে ১৩ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা বা ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আলোচ্য বছরে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা মোট লেনদেন করেছেন ৭৯ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে গত ডিসেম্বরে, ৮ হাজার ৯২ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকরা মোট লেনদেন করেছিলেন ৬৫ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা। প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০২০ সালে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ৭ লাখ ৭৩ হাজার ১৮২ জন গ্রাহক বেড়েছে। ফলে ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ৩২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৩ জনে। আলোচ্য বছরে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক বাড়ার হার ৩১ শতাংশ। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ।
পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে নতুন গ্রাহক যোগ হয় ৫ লাখ ১৬৭ জন। ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে এ সেবার গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৭২ হাজার ১৫১ জনে। বর্তমানে দেশে ৬১টি ব্যাংক কাজ কারছে। একেবারে নতুন চালু হওয়া ব্যাংকগুলো ছাড়া প্রায় সব বেসরকারি ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা রয়েছে। সরকারি ব্যাংকগুলোও এখন ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে জোর দিচ্ছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে এক হিসাব থেকে আরেক হিসাবে টাকা পাঠানো, ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ, মোবাইল ফোনে রিচার্জ করা, মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে টাকা পাঠানো, মার্চেন্ট পেমেন্ট বা কেনাকাটার বিল পরিশোধসহ বেশকিছু সেবা পাওয়া যায়। ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং সাইটে লগইন করে এ সেবা নিতে পারেন গ্রাহকরা। লেনদেন সংখ্যার দিক দিয়েও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এক মাসে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১৬ লাখ ৫২ হাজার বার লেনদেন করেন গ্রাহকরা। অন্যদিকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে লেনদেন সংখ্যা ছিল ২৩ লাখ ৪৪ হাজার। করোনার মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল সেবার গ্রাহক দ্রুত বাড়তে শুরু করে বলে জানান ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমরানুল হক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে গ্রাহকরা যখন ডিজিটাল সেবার দিকে ঝুঁকতে শুরু করে, তখন ঢাকা ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমরা ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার পদ্ধতি চালু করি। ফলে ঢাকা ব্যাংকের এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় ২৭ থেকে ২৮ হাজার নতুন ব্যাংক হিসাব খোলেন গ্রাহকরা। তিনি আরও বলেন, কভিড আসার পর গ্রাহকদের মধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রয়োজনীয়তাটা বেশি করে অনুভব করতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ সেবার গ্রাহক ও লেনদেন বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
