রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ

মার্চ থেকেই ৬ পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:৪১ এএম

আসন্ন রমজান উপলক্ষে ১ মার্চ থেকে খোলাবাজারে থাকছে সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবি। সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা, খেজুর ও পেঁয়াজএ ৬টি পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪০০-৫০০ ট্রাকে বিক্রি করা হবে। ইতিমধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করেছে টিসিবি। সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আজ বুধবার অনুমোদন দিলে সয়াবিন তেল ও চিনি সরবরাহ শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ পরিসরে এই কার্যক্রম চলবে। বর্তমানে ছোলা ও খেজুর বাদে বাকি ৪ পণ্য বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগে রমজানকে কেন্দ্র করেই টিসিবি পণ্য বিক্রি করত। তবে এবার করোনাসহ বিভিন্ন কারণে সারা বছরই বিক্রি করছি। আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে তেলের মূল্য একটু বেশি। এজন্য এবার তেল বিক্রির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। কোনো কোনো পণ্য বিক্রির পরিমাণ ২০০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া আমরা রমজানকে সামনে রেখে রমজানের পূর্বেই পণ্য বিক্রি করি। এবার হয়তো আগামী ১ মার্চ থেকেই এই কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে টিসিবির পণ্য কালোবাজারি করতে না পারে সেজন্য আমরা সতর্ক আছি। আমরা কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। আপনারাও (গণমাধ্যম কর্মী) কোনো অভিযোগ পেলে বা অনিয়ম দেখলে আমাদের জানাবেন।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২১ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে রমজানে প্রয়োজন প্রায় ৪ লাখ টন। বার্ষিক ১৮ লাখ টন চিনির বিপরীতে রমজানে প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ টন, বছরে ৫ লাখ টন মসুর ডালের বিপরীতে রমজানে প্রয়োজন প্রায় ৮০ হাজার টন, রমজানে প্রায় ৫ লাখ টন পেঁয়াজ ও ৭৫-৮০ হাজার টন ছোলার প্রয়োজন পড়ে। পেঁয়াজ বাদে বাকি সব পণ্যের অধিকাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ায় দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ১ যুগের রেকর্ড ভেঙে ১৩৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, এক স্তরের ভ্যাট নির্ধারণ না হলে আপাতত এই দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোজ্য তেলের দামের বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য এখনো টিসিবি সয়াবিন তেল বিক্রি করছে। এটা চলবে। ডাল ও চিনি এখনো বিক্রি হচ্ছে। রমজানে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিমাণেও এবার অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় অনেক বেশি।’

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার টিসিবি আড়াই কোটি লিটার বা ২৩ হাজার টন ভোজ্য তেল বিক্রি করবে, যা গত বছরের প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া ১৭ হাজার টন মসুর ডাল, ৬০০ টন ছোলা, ১৩ হাজার টন চিনি ও খেজুর বিক্রি করা হবে। পেঁয়াজের বিষয়টি নির্ভর করছে বাজার দরের ওপর। এখন বাজারে পেঁয়াজের দাম যেমন আছে তেমনটা রমজানেও যদি থাকে, তাহলে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত থাকবে। দামও বর্তমান টিসিবির পেঁয়াজের দামের সমান কেজিপ্রতি ১৫ টাকা থাকার সম্ভাবনা বেশি।

বর্তমানে মহানগর পর্যায়ে ৯০-১০০টি ট্রাকসহ মোট ৩৫০-৩৯০টি ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ৯০ টাকা লিটার দরে সয়াবিন তেল, কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা দরে মসুর ডাল, কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। রমজানেও এসব পণ্য এই দামেই বিক্রি হবে নাকি কিছুটা কমবেশি করা হবে সেটি নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর। রমজানে ২ লিটার ও ৫ লিটার বোতলে সয়াবিন তেল বিক্রি হবে। একজন ক্রেতা এক দিনে সর্বোচ্চ ৫ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন। বাকি পণ্যগুলো দিনে জনপ্রতি ২ কেজি করে কেনা যাবে।

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তেল ও চিনি আমরা এখনো কিনিনি। এই দুই পণ্যের মোট দাম যে পরিমাণ হয়েছে তা ছাড়ের জন্য সরকারে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। আশা করছি আগামীকাল (আজ বুধবার) বা আগামী সপ্তাহের মিটিংয়ে এটির অনুমোদন মিলবে। বাকি পণ্যগুলো সরবরাহ প্রক্রিয়া চলমান আছে। রমজানে সারা দেশে ৪০০-৫০০ ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত