মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান

সংখ্যালঘুদের বিক্ষোভ, গুলিতে নিহত ২

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:৪৫ এএম

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চি সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে মিয়ানমারে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন দেশটির সংখ্যালঘু বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা।

মিয়ানমারের মান্দালে শহরে গতকাল শনিবার পুলিশের গুলিতে অন্তত দুজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। শহরের জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা পারাহিতা দারহির স্বেচ্ছাসেবী কো অং এএফপিকে বলেন, ‘২০ জন আহত হয়েছেন ও দুজন মারা গেছেন।’

মান্দালেতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল ছোড়েন। জবাবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে ও গুলি চালায়। তবে এটি রাবার বুলেট নাকি লাইভ রাউন্ড গুলি তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভয়েস অব মিয়ানমারের সহকারী সম্পাদক লিন খাইয়াংসহ একাধিক গণমাধ্যমকর্মী জানিয়েছেন, মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন মারা গেছেন।

নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বিজয়ীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে সামরিক বাহিনীর প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও মিয়ানমারে ১ ফেব্রুয়ারি হওয়া অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে জনগণের সরব প্রতিবাদ অব্যাহত আছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার ইয়াঙ্গুনে নাগা, চিনসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ দেখান বলে জানিয়েছে এএফপি।

বিক্ষোভকারীরা গণতান্ত্রিক সরকারকে পুনর্বহাল, সু চি ও অন্য রাজনীতিকদের মুক্তি এবং ২০০৮ সালের সংবিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। জাতিগত সংখ্যালঘুরা বিক্ষোভে নতুন সংবিধানে ‘ফেডারেল সিস্টেম’ রাখারও দাবি জানিয়েছেন। নাগা জাতিগোষ্ঠীর সদস্য কে জুং বলেন, ‘স্বৈরতন্ত্রের অধীনে দেশে ফেডারেল ব্যবস্থা চালু করতে পারব না আমরা। আমরা সামরিক জান্তাকে স্বীকৃতি দিতে পারি না।’ জাতিগত সংখ্যালঘুদের অনেক দল এখনো অভ্যুত্থানের বিরোধিতায় নামেনি বলেও জানান এ যুবনেতা।

চিন জাতিগোষ্ঠীর সদস্য সালাই মন বোই শনিবারের বিক্ষোভে জাতিগত সংখ্যালঘুরা মূলত চারটি দাবির কথাই জোরের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন। এগুলো হলো সংবিধান বাতিল, স্বৈরতন্ত্রের অবসান, ফেডারেল সিস্টেম চালু ও সব বন্দির মুক্তি।

সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রসঙ্গ টেনে এই আন্দোলনকারী নেতা বলেন, ‘অনেকেই আছে যারা এনএলডিকে পছন্দ করে না। কিন্তু আমরা এনএলডিকে নিয়ে কথা বলছি না।’ স্বায়ত্তশাসন প্রসঙ্গে সু চির প্রতিশ্রুতি নিয়ে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকায় অনেকে অভ্যুত্থানবিরোধী প্রতিবাদে যুক্ত হচ্ছেন না বলছেন শনিবারের বিক্ষোভের আয়োজকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত