সাকিবের পর শুরু করে ১০০ টেস্ট খেলে ফেললেন ইশান্ত

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:২০ এএম

২০০৭ সালে বাংলাদেশ-ভারত একই সিরিজে টেস্ট অভিষেক হয় দুজনের। চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে সাকিব আল হাসান। পরে ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টে ইশান্ত শর্মা। ১৪ বছর পর দুই ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার গ্রাফ দুরকম। সাকিব এখন সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। আর ইশান্ত ভারতের টেস্ট দলের ফ্রন্ট পেসার। সাকিব টেস্ট থেকে দূরে সরছেন ক্রমে কিন্তু ইশান্ত টেস্টেই মজছেন। তাই গতকাল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শততম টেস্ট খেলতে নামতে পারলেন ভারতীয় পেসার। আর ৫৭ টেস্ট খেলা সাকিব সামনের সিরিজ থেকেই ছুটি নিয়েছেন।

ইশান্ত সবশেষ ২০১৬ সালে ওয়ানডে খেলেছেন। এরপর থেকে তাকে আর রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে বিবেচনা করা হয়নি। তারও আগে ২০১৩ সালে খেলেছিলেন শেষ টি-টোয়েন্টি। তাতে নিশ্চিত আক্ষেপ নেই এ পেসারের। ক্রিকেটের সেরা ফরম্যাটেই যে উদ্ভাসিত ও উজ্জ্বল হচ্ছেন তিনি। কিছুদিন আগে পূর্ণ করেছেন ৩০০ উইকেটের মাইলফলক। এবার কপিল দেবের পর দ্বিতীয় ভারতীয় পেসার হিসেবে শততম টেস্টের মাইলফলকেও পা রাখা হলো তার। সবমিলিয়ে ১৮তম বোলার এবং ১২তম পেসার হিসেবে শততম টেস্ট খেলছেন ইশান্ত।

পেসারদের জন্য শততম টেস্ট খেলা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। ইনজুরির সঙ্গেই তো লড়াই করে কাটে তাদের। সেই লড়াই সামলে নার্ভাস নাইনটিতে ঠেকেছেন ডেল স্টেইন (৯৩), কার্টলি অ্যামব্রোস (৯৮), জহির খান (৯২), বব উইলিসরা (৯০)। সেঞ্চুরি পার করা পেসারদের ক্লাবে ছিলেন মাত্র ১১জন– জেমস অ্যান্ডারসন, গ্লেন ম্যাকগ্রা, কোর্টনি ওয়ালস, স্টুয়ার্ট ব্রড, কপিল দেব, শন পোলক, ওয়াসিম আকরাম, মাথায়া এনটিনি, ইয়ান বোথাম, চামিন্দা ভাস, জ্যাক ক্যালিস। এবার তাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন ইশান্ত।

১০০ টেস্ট খেলা এই ১২ পেসারের মধ্যে ৯ জনই অবসরে গেছেন আরও আগে। খেলে যাচ্ছেন অ্যান্ডারসন, ব্রড ও ইশান্ত। ভারতীয় পেসারের বয়স মাত্র ৩২। ব্রডের ৩৪। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো ৩৮ বয়স হলেও দিব্যি গতি তুলে যাচ্ছেন অ্যান্ডারসন। বয়স্ক পেসার হিসেবে একমাত্র এ ইংলিশই বল করে যাচ্ছেন ধারাবাহিকতায় এবং যথেষ্ট সফলও তিনি। 

১০০ টেস্ট খেলা তো দারুণ মাইলফলক। কিন্তু এই টেস্টে পেসারদের দফারফা হয়ে যায় পারফরম তুলে আনতে। ইতিহাস তাই বলছে। শততম টেস্টে কিংবদন্তির গ্রেট কপিল দেব ছাড়া কোনো পেসারই এখন পর্যন্ত বলার মতো পারফরম করতে পারেননি। ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে কপিল নিজের শততম টেস্টে ৪ উইকেট, এক ইনিংসে ৫৫ ও পরের ইনিংসে ৩ উইকেট নেন। অলরাউন্ডারদের মধ্যে এটাই সেরা সাফল্য। এছাড়া ২০০৬-এ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যালিস তার শততম টেস্টে ৩৮ ও ৬২ আর ১ উইকেট নেন। ২০১৫-তে উইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্ডারসন শততম টেস্টে ২ উইকেট করে ৪ উইকেট নেন। সতীর্থ স্টুয়ার্ট ব্রড ২০১৬-তে ভারতের বিপক্ষে তার শততম টেস্টে মাত্র ১ উইকেট নিতে পারেন। ১৯৯৮-তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ালশ, ২০০৪ ভারতের বিপক্ষে ম্যাকগ্রা, ২০০৭-এ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভাস নিজ নিজ শততম টেস্টে ৫ উইকেট করে নেন। ২০০৬ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পোলক নেন ম্যাচে ২ উইকেট। ১৯৯২-তে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইয়ান বোথাম মাত্র ৩ উইকেট ও ১৬ রান করেন। ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়াসিম আকরাম ম্যাচে নেন ১ উইকেট। আর ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এনটিনি নেন ২ উইকেট। গতকাল আহমেবাদে শততম টেস্ট শুরু করা ইশান্ত স্পিনারদের দাপটে ৫ ওভার বল করতে পেরেছেন। নিয়েছেন মাত্র ১ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি কী করতে পারেন সেটাই দেখার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত