শ্রীলঙ্কা দল নিয়ে আগের রাতে ক্যারিবীয় দ্বীপে পৌঁছেছেন মিকি আর্থার। সকালে ঘুম থেকে উঠে খবর শুনে বিশ্বাসই হচ্ছিল না তার। আহমেদাবাদ টেস্টে স্পিনারদের ভেল্কি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে টুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘আহমেদাবাদ টেস্ট এখানে টিভিতে দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু সিরিয়াসলি, ম্যাচটা দুদিনেই শেষ! টেস্ট হলো ক্রিকেটারদের মানসিক, শারীরিক আর স্কিলের চূড়ান্ত পরীক্ষাক্ষেত্র। কিন্তু যখন একটা মাত্র স্কিলের প্রতি পক্ষপাত (পড়ুন স্পিন) দেখানো হয়, তখন টেস্ট নিজের মহিমা হারিয়ে ফেলে।’
পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের উইকেট ঘূর্ণি বোলারদের এমনই পক্ষপাত দেখিয়েছে যে মিকি আর্থারের মতো অনেকেই মনে করছেন এই টেস্টের আবেদন বলে কিছু নেই। হতে পারে মোতেরার উইকেট নতুন। তাই বলে বিশ্বসেরা দুটি দলের খেলা দু’দিনে শেষ হয়ে যাবে! ক্রিকেট যতই গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা হোক ব্যাপারটা ভাবতেও কেমন কেমন লাগে।
প্রথম ইনিংসে ১১২ রানে অলআউট হয়েছিল ইংল্যান্ড। দুই ভারতীয় স্পিনার অক্ষর প্যাটেল এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৬ + ৩ = ৯ উইকেট নিয়েছিলেন। জবাব দিতে নেমে ভারত ১৪৫ রানে অলআউট দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ গতকাল বিকেলে। জ্যাক লিচের সঙ্গে হাত ঘুরিয়েই ৫ উইকেট পেয়ে যান ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট। ৩৩ রানের লিড নেয় ভারত। এই লিডের গুরুত্ব প্রথম ওভারেই বোঝাতে শুরু করেন অক্ষর প্যাটেল। মোতেরার উইকেটের ঘূর্ণিফাঁদে একে একে প্রাণ দিতে থাকেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ওভারে ২ উইকেট তুলে নেন অক্ষর। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট নিয়ে থামেন তিনি। অশ্বিন নেন ৪টি। অন্যটি নেন ওয়াশিংটন সুন্দর। মানে ৮১ রানে গুঁড়িয়ে যাওয়া ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের সব উইকেটই নিয়েছেন ভারতীয় স্পিনাররা। ডিনারের সামান্য আগে জেতার জন্য মাত্র ৪৯ রানের টার্গেটে খেলতে নামেন ভারতের ওপেনাররা। মাত্র ৭.৪ ওভারের মধ্যে ৪৯ রান তুলে নেন তারা। রোহিত ছক্কা মেরে ভারতকে ২-১ ম্যাচে এগিয়ে দেন ৪ টেস্টের সিরিজে। সেই সঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পথেও অনেকটা এগিয়ে যায় ভারত। পরের ম্যাচটা ড্র করলেও ফাইনালে তারা।
আহমেদাবাদ টেস্টে সবচেয়ে হতাশ সম্ভবত জো রুট। গতকাল বিকেলে কী অসাধারণ বোলিং করে দলকে খেলায় ফিরিয়েছিলেন। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি ৬.৩ ওভারে মাত্র ৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে। কম রানে ৫ উইকেটের নতুন নজির এটি। এর আগে টিম মে ও মাইকেল ক্লার্ক এমন নজির গড়েছিলেন। দুজনই ৯ রানে ৫ উইকেট নেন। ইংরেজ ক্রিকেটারদের মধ্যে ইয়ান বোথাম ১১ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ১৯৮১-তে এজবাস্টনে।
ইতিহাসের ২৪১২তম টেস্ট ছিল আহমেদাবাদ টেস্টটি। মাত্র দু’দিনে শেষ হওয়া টেস্টের হিসাবে ২৩তম। সাম্প্রতিক ইতিহাসে (২০০০ সালের পর) সপ্তম টেস্ট দু’দিনে শেষ হলো। আগের ছয়টির কোনোটিতেই স্পিনারদের দাপট দেখা যায়নি। দ্বিতীয় দিনের ডিনারের পর মাত্র ৫.৪ ওভার খেলা হয়েছে। মানে দ্বিতীয় দিনের প্রায় এক সেশন খেলা বাকি ছিল। এর চেয়েও সংক্ষিপ্ততম টেস্ট আছে ইতিহাসে। ১৯৩১-৩২ মৌসমে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া ১৫৩ রানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল এক দিন এক ঘণ্টায়। খেলা হয় মাত্র ৬৫৬ ওভার।
কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটের বদলে যাওয়া এই সময়ে দু’দিনেরও কম সময়ে আহমেদাবাদ টেস্ট নিষ্পত্তি মিকি আর্থারের মতে বিস্ময় ও পরিতাপের জন্ম দিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড : ১১২ ও ৮১ (স্টোকস ২৫, রুট ১৯; অক্ষর ৫/৩২, অশ্বিন ৪/৪৮, সুন্দর ১/১)।
ভারত : ১৪৫ (রোহিত ৬৬; রুট ৫/৮, লিচ ৪/৫৪) ও ৪৯/০।
ফল : ভারত ১০ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : অক্ষর প্যাটেল।
সিরিজ : চার ম্যাচের সিরিজে ভারত ২-১-এ এগিয়ে।
