অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (পিএলএফএস) ঋণখেলাপিদের ফের সতর্ক করেছে উচ্চ আদালত। খেলাপিদের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছে, ‘আপনারা একটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন। ঋণের টাকা ফেরত না দিয়ে কোনো মন্ত্রী বা কারও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হলে জেলে যেতে হবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করে।
কানাডায় পালিয়ে থাকা পি কে হালদার সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং থেকে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন এমন ২৮০ ঋণগ্রহীতাকে গত ২১ জানুয়ারি এক আদেশে ২৩ ফেব্রুয়ারি হাজির হতে তলব করে হাইকোর্ট। আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার প্রথম ধাপে ১৪০ খেলাপির হাজির হওয়ার কথা থাকলেও হাজির হন ৫৩ জন। আদালত তাদের বক্তব্য হলফনামা আকারে দাখিল করার আদেশ দেয়। এসময় ঋণখেলাপিদের সতর্ক করে হাইকোর্ট বলে, যারা আদালতের আদেশের পরও আসবেন না তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হবে। গতকাল ১৩৭ জনের মধ্যে ৪৫ ঋণখেলাপি হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করেন।
খেলাপিদের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলে, ‘আপনারা টাকা নিয়ে দিচ্ছেন না। অথচ যারা টাকা জমা রেখেছেন তারা না খেয়ে রাস্তায় ঘুরছে। এতগুলো টাকা নিয়ে বসে আছেন, প্রথমে কিছু টাকা দিয়ে এরপর কে কত টাকা কবে কীভাবে দেবেন, সে ব্যাপারে আলোচনায় আসবেন। এগুলো জনগণের টাকা। পরের তারিখের (আগামী ৯ মার্চ) আগেই প্রথম কিস্তি দিয়ে দেবেন, তা না হলে জেলে ঢুকিয়ে দেব। আপনারা একটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন। কোনো মন্ত্রী বা কারও প্রভাব খাটানো যাবে না।’
আদালতে সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) মো. আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মেজবাহুর রহমান। ঋণখেলাপিদের পক্ষে ছিলেন সৈয়দা নাসরিন, বেলায়েত হোসেনসহ বেশ কয়েক আইনজীবী। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম।
২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিন হাইকোর্ট আবেদনটি গ্রহণ করে সাময়িক অবসায়ককে তলব করে। পরে বিভিন্ন সময়ে এ সংক্রান্ত বেশকিছু আদেশ হয় হাইকোর্ট থেকে। গত বছরের নভেম্বরে আদালত অবসায়ককে পিপলস লিজিংয়ের ঋণগ্রহীতাদের একটি তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮০ ঋণখেলাপির নাম আসে।
