স্বামী-স্ত্রী দুজনই চিকিৎসক। তাদের রয়েছে দুটো ফুটফুটে শিশুকন্যা। সাজানো সুখের সংসার। স্ত্রী বিসিএস পরীক্ষা দেবেন, তাই দুই সন্তানকে বাসায় রেখে গতকাল শুক্রবার ভোরে সিলেট থেকে বাসে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। কিন্তু যাত্রা শুরুর আধঘণ্টার মধ্যেই সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রশিদপুরে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চিকিৎসক স্বামীসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ২৫-৩০ জন। সকাল পৌনে ৭টার দিকে সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেসের বাস ও সিলেট থেকে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রশিদপুর এলাকায় যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতরা হলেনএনা পরিবহনের বাসের চালক সিলেটের ওসমানীনগরের মঞ্জুর আলী (৩৮), বাসের সুপারভাইজর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সালমান খান (২৮), বাসের কর্মী ওসমানীনগরের জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নুরুল আমিন (৫০), সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আল মাহমুদ ইমরান খান (৪৫), ঢাকার ওয়ারী এলাকার নাদিম আহমেদ সাগর (২০), সিলেটের আখালিয়ার শাহ কামাল (৪৫) ও সুনামগঞ্জের ছাতকের রহিমা বেগম (৩০)। নিহতদের মধ্যে ৬ জন ঘটনাস্থলে এবং সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টায় একজন এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় আরেকজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ২৫ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আহত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোরবেলা অনেকটা ফাঁকা সড়কে দুটি বাসই চলছিল দ্রুতগতিতে। রশিদপুরের অদূরে ব্রিজের কাছে দুই বাস প্রচ- গতিতে মুখোমুখি ধাক্কা খায়। এতে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গেছে। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ আর আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তবে বাস দুটি এমন ভয়ংকরভাবে একটি আরেকটির মধ্যে অনেকটা ঢুকে পড়েছিল যে, সাধারণের পক্ষে তেমন কিছুই করার ছিল না। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তারা একে একে নিহতদের উদ্ধার এবং আহতদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিলেটের উপ-পরিচালক কোবাদ আলী সরকার জানান, সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেসের বাসটি ব্রিজ পার হয়েই বিপরীতমুখী এনা পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তিনি জানান, দুর্ঘটনাস্থলের দৃশ্য দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে লন্ডন এক্সপ্রেসের বাসের চালকের ভুলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। লন্ডন এক্সপ্রেসের বাসটি সড়কের ভুল পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে চলছিল। এনা পরিবহনের বাসটি সড়কের সঠিক পাশ দিয়েই যাচ্ছিল বলে মনে হচ্ছে। তবে বিস্তারিত তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান কোবাদ আলী।
লন্ডন এক্সপ্রেসের বেঁচে যাওয়া একজন যাত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে ছাড়ার পরই বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল এবং বিপদজনকভাবে একের পর এক গাড়িকে ওভারটেক করছিল। এ কারণে যাত্রীরা একাধিকবার চালককে সতর্কও করেছিলেন। কিন্তু এরপরও শেষ রক্ষা হয়নি। সিলেটের কাছাকাছি এসেই শেষ পর্যন্ত ভয়ানক দুর্ঘটনায় পড়ে বাসটি। অন্যদিকে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া এনা পরিবহনের বাসের যাত্রীরা যাত্রা শুরুর আধঘণ্টার মধ্যেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পড়েন।
দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, গাড়ির অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে লন্ডন এক্সপ্রেসের বাসের চালকের ভুলেই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তদন্তে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে। ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের উভয়পাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে। রশিদপুরের দুদিকে অন্তত তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয় যানজট। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা উদ্ধার কাজ শেষ করলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) এবিএম আশরাফ উল্যাহ জানান, এনা পরিবহনের বাসটিতে ৮ যাত্রী, বাসের চালক ও সহকারী মিলে মোট ১১ জন ছিলেন। অন্যদিকে লন্ডন এক্সপ্রেসের বাসে ২৮ যাত্রী, চালক ও সহকারী মিলে মোট ৩১ জন ছিলেন। তিনি জানান, তদন্তের পরই দুর্ঘটনার কারণ সুস্পষ্টভাবে জানা যাবে।
বিসিএস পরীক্ষার জন্য স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন ডা. আল মাহমুদ : গতকাল শুক্রবার সকালে রশিদপুরে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি বাস এবং ঢাকা থেকে সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেসের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ওই চিকিৎসক দম্পতির সংসার তছনছ করে দিয়েছে।
জানা যায়, ডা. আল মাহমুদ ইমরান খান সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরি করেন। তার স্ত্রী ডা. শারমিনের বিসিএস পরীক্ষা ছিল গতকাল শুক্রবার। এজন্য ভোরে বাসে করে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
ডা. শারমিনের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক আহাজারি করে বলেন, ‘বিসিএস পরীক্ষা আমার মেয়ের জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াল। আজ স্বামীকে নিয়ে সে বিসিএস পরীক্ষা দিতে ঢাকায় যাচ্ছিল। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সে স্বামীকে হারাল। সে নিজেও জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তাদের দুটো বাচ্চার এখন কী হবে।’
এদিকে ছেলে হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন শারমিন আক্তারের শাশুড়ি ফরিদা খান। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। ফরিদা খানকে সান্ত¦না দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাদের স্বজনরা।
ডা. আল মাহমুদ ও ডা. শারমিন আক্তার দম্পতির বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে। তারা সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ডা. শারমিন আক্তার ৪২তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গতকাল স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। কিন্তু যাত্রা শুরুর অল্পক্ষণের মধ্যেই শারমিনের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন চিরতরে। শারমিন নিজেও অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কালীগঞ্জে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় শিমুল বিশ^াস (৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও চারজন। গতকাল বিকেলে কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের পাতবিলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিমুল বিশ^াস কোটচাঁদপুর পৌরসভাধীন দুধসর গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বিশ^াসের ছেলে।
কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মামুনুর রশিদ জানান, নিহত শিমুল বিশ^াস মোটরসাইকেলযোগে কালীগঞ্জ থেকে কোটচাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে পাতবিলা তেল পাম্পের সামনে পৌঁছালে যাত্রীবাহী বাসের পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেল ওভারটেক করতে যায়। ফলে দুই মোটসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পেছন থেকে আসা আরও একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই দুই মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলে শিমুল মারা যায়। এসময় আহত হয় আরও চার মোটরসাইকেল আরোহী।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ দমকল বাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালকসহ নিহত ৪ : বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার মাঝিড়া ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বগুড়ার শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা রতন হোসেন জানান, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জগামী শাওন পরিবহনের বাসটি মাঝিড়া ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পৌঁছে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার চালকসহ তিনজন মারা যান। গুরুতর আহত এক যাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তারও মৃত্যু হয়। দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তারা হলেন শাজাহানপুর উপজেলার ডেমাজানি গ্রামের বাসিন্দা কালিদাস চন্দ্র (৭০) ও ধুনট উপজেলা সদরের শাহ জামাল (৩৬)। তিনি আরও জানান, লাশ চারটি শেরপুর হাইওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়। বাসের চালককে স্থানীয় লোকজন আটক করে হাইওয়ে থানায় সোপর্দ করেছে বলেও জানান তিনি।
বগুড়া-নওগাঁ সড়কে ট্রাকচাপায় দুজন নিহত : বগুড়া-নওগাঁ সড়কের দুপচাঁচিয়া তিষিগাড়ী মোড়ে গতকাল শুক্রবার দুপুরে ট্রাকচাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুর রউফ ওরফে রাসেল (৩৩) ও যাত্রী মুক্তার হোসেন (৩৭) নিহত হয়েছেন। আব্দুর রউফ দুপচাঁচিয়া উপজেলার মোড়গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে এবং মুক্তার একই উপজেলার বেলহালী গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অটোরিকশাচালক একজন যাত্রী নিয়ে তিষিগাড়ী মোড়ে একটি দাঁড়ানো ট্রাককে পাশ কাটিয়ে দুপচাঁচিয়ায় আসার পথে একই দিক থেকে আরেকটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন দিকে অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। অটোরিকশাটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সঙ্গে চাপা লেগে অটোরিকশার চালক আব্দুর রউফ ও যাত্রী মুক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রাকের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী বলেন, ট্রাকটি আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং লাশ দুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।
বরিশালে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত : বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়বাত সেতুতে বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও চালকের সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল ১০টার দিকে বরিশাল শহীদ আবদুর রব সেরনিয়বাত সেতু এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী এলাকার সিরাজ মাতুব্বরের ছেলে মো. শরীফ মাতুব্বর (২০) এবং একই বাড়ির ইউসুফ আলীর ছেলে আল-আমীন (২০)। সম্পর্কে তারা দুজন চাচাতো ভাই।
কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. নাজমুল হুদা জানান, ভাঙ্গা থেকে মোটর সাইকেলযোগে ওই দুই যুবক চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। বরিশালের দপদপিয়া সেতু অতিক্রমকালে বিপরীতমুখী বালুবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে আরোহী দুই যুবক গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আহত শরীফ মাতুব্বরকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আল-আমীনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হলে পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো গুণবতী ইউনিয়নের কৈতরা গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে মো. ইউসুফ (২০), বগুড়া সদর উপজেলার চরজপুর গ্রামের আবু তৈয়বের ছেলে মনির হোসেন (২৫) ও অপরজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. খোকন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমজাদের বাজার এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় পিকআপের হেলপার মনির হোসেন নিহত হন। মহাসড়কের পদুয়া-লাটিমি রাস্তার মাথা এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির (২৯) লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের গুণবতী রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ইউসুফ নিহত হয়েছে। এই নিয়ে গত দু’দিনে গুণবতী রেল স্টেশনে তিনজন নিহত হয়েছে।
চকরিয়ায় পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় দুজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত : কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার বানিয়ারছড়া এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত ও একজন আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে মহাসড়কের বানিয়ারছড়ার মহেশখালী রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নেজামউদ্দিনের ছেলে মো. ছোটন (২২), কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জানিয়া এলাকার আমির হোসেনের ছেলে শামসুল আলম (২০)। আহত মো. ফারুক যুবক রামুর গর্জানিয়ার মো. হোসেনের ছেলে। তারা সবাই বানিয়ারছড়ার একটি গ্রিল ওয়ার্কশপের দোকানে শ্রমিক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার বিকেলে তিন বন্ধু মিলে মোটরসাইকেল নিয়ে হারবাংয়ের দিকে বেড়াতে যাচ্ছিল। তাদের মোটরসাইকেলটি বানিয়ারছড়ার আমতলী এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ (মিনি ট্রাক) জোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে ছোটন মারা যায়। পরে আহত শামসুল আলম ও ফারুককে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে শামসুল আলম মারা যায় বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন। আহত ফারুককে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। চকরিয়া উপজেলার মহাসড়কের চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সিরাজুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করেন।
