নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অস্ত্রের মুখে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের পর তা ভাইরালের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার দল বেঁধে ধর্ষণ এবং অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর ওই তরুণী আর ফিরে আসেনি বলে অভিযোগ করেন তার মা।
এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় গত বৃহস্পতিবার রাতে একই এলাকার রাসেল (২৫), জোবায়ের (২৪), সাইফুল ইসলাম ইমন (২২) এবং ফয়সাল নামে চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই তরুণীর মা। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে ইমন ও ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নিখোঁজ তরুণীর মা সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮ সাল থেকে একই এলাকার ইমন, রাসেল আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ বিষয়ে ডেকে এনে নিষেধ করলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ‘আমাদের কথায় রাজি না হলে তোর মাকে মেরে ফেলব’ বলে হুমকি দেয়। এরপর একদিন রাসেল ও ইমন আমাদের বাড়িতে এসে কৌশলে কোমলপানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে আমাকে অচেতন করে অস্ত্রের মুখে মেয়েকে বিবস্ত্র ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। পরে এক দোকানিকে ডেকে এনে জোর করে আমার মেয়ের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে উভয়কে বিবস্ত্র ও ভিডিও ধারণ করে তারা। ওই ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় এবং একাধিকবার তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। বাধ্য হয়ে মেয়ে বিয়ে দিয়েও রেহাই পাইনি। বিয়ের পরে মেয়ে বেড়াতে এলে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এসময় তারা ঘর থেকে ৫০ হাজার টাকা, ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে যায়। এরপর থেকেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা নিতে থাকে। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। একবার থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সুফল পাইনি। বর্তমানে অসহায় হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাহায্যে পুনরায় আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ডিসেম্বর রাসেল আমার মেয়েকে নিয়ে যায়, এখন সে কোথায় আছে, কীভাবে আছে জানি না। গত সপ্তাহে রাসেল প্রস্তাব দিয়েছে এবার এক লাখ টাকা দিতে। টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।’
এ বিষয়গুলো পুলিশকে জানানো হয়েছে কি নাএ প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণীর মা বলেন, ‘আমি বেগমগঞ্জ থানার সুজন চাকমার কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম। উনি আমার এলাকায় গিয়ে তদন্তও করেছিলেন। আমি যদি সুজন চাকমাকে কিছু বলি তিনি আবার আসামিদের সব বলে দেন। পরে তারা এসে হুমকিধমকি দেয়। যে কারণে আমি নীরব ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখনো টাকা-পয়সা চাচ্ছে। না দিলে মেয়েকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। লাশও দেখাবে না বলে হুমকি দেয়। এ পর্যন্ত ৪টি বাসা পাল্টেছি। আমি আমার মেয়েকে চাই এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত বিচার চাই।’
এ বিষয়ে ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল কাদের জানান, গেল বছরের অক্টোবর মাসে মেয়ের মা তাকে বিষয়টি জানান। গত ২ মাস ধরে মেয়েটি নিখোঁজ রয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, ‘এরা সবাই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে ওই মেয়ের বিষয়ে আমি কিছুই শুনিনি তবে পূর্বের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতাম।’
বেগমগঞ্জ থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, রাতেই ইমন ও ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারপূর্বক ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
