আশুলিয়ায় মনা হত্যা

মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ০২:০৪ এএম

ঢাকার আশুলিয়ায় মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের কাছে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি হত্যা মামলার বাদীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি বিষয়টি উল্লেখ করে সুবিচার কামনা করে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তবে মামলার বাদী অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন বলছেন, কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁসানো হয়নি।

জানা গেছে, আশুলিয়ার ডে-াবর নতুন পাড়ায় সম্প্রতি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে শাজাহান খন্দকার মনা নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ওই সংঘর্ষে আহত হন অন্তত আরও পাঁচজন। মনা হত্যার ঘটনায় তার ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় সাতজনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। আর ওই মামলায় ফাঁসানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি এলাকার নিরপরাধ অনেক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ব্যক্তি সুবিচার কামনা করে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

মনা হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ডে-াবর এলাকায় একটি ক্লাব তৈরি করে বিভিন্ন সময় আসামিরা গানবাজনা ও মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম করত। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের সমস্যা হওয়ায় মনা আসামিদের এসব বন্ধ করতে বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ জানুয়ারি আবার নিষেধ করতে গেলে আসামিরা মনাকে মারধরের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মনা।

এ হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক। কিন্তু এরই মধ্যে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মনা হত্যা মামলায় কয়েকজনকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করার প্রতিবাদ করায় মো. হেলাল উদ্দিন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকেও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে বাদী আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী হেলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মনা গ্রুপ ও রবিউল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনা মারা যায়। এ ঘটনায় রবিউলের বিরুদ্ধে মামলা না করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ টিটু, থানা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজনকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি এসব বিষয়ে কথা বলায় আমাকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছে মনার ভাই আলমগীর। এছাড়া এখনো আরও অনেককে মামলার আসামি করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগের টিটু ও যুবলীগের সাইফুল মিলে এলাকায় একটি ক্লাব বানিয়েছে। এখানে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর নেশা করে মাতাল হয়ে তারা লোকজনকে বিরক্ত করে থাকে। পেছনেই একটি ক্যারম বোর্ড বসিয়েছে, যেখানে উঠতি বয়সী ছেলেরা আড্ডার পাশাপাশি মাদক সেবন ও বিক্রি করত। এসবের প্রতিবাদ করায় সাইফুল ও টিটোর নির্দেশে তাদের লোকজন আমার ভাইকে হত্যা করেছে। মামলায় কাউকেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁসানো হয়নি।’

হামলার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত মনার ভাই পিন্টু বলেন, ‘অর্ধশত ছেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে ৮-১০ জন মিলে মনাকে কাঁধে করে নিয়ে যায় এবং কুপিয়ে আহত করে ফেলে রেখে যায়। এর আগেই সাইফুল ও টিটু আমাদের শেষ করে ফেলার নির্দেশ দেওয়ায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ছেলেরা আমার ভাইকে হত্যা করেছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ টিটু বলেন, ‘মনা হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য মূল অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এমন নিরীহ কিছু লোকজনকে জড়ানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় এলাকায় না থাকলেও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য আমাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’

এদিকে মনা হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষেয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই ফজর আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহত মনার নামে দুটি মাদক মামলা রয়েছে। মনা হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে অসুস্থ রয়েছে দুজন। তারা সুস্থ হলে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত