গৃহকর্মীর অধিকার সুরক্ষা ও তাদের শ্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারসহ সব পক্ষকে একযোগে কাজ করা আহ্বান জানিয়েছেন উন্নয়ন খাত সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫ বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন তারা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সিরডাপ মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘বাংলাদেশের গৃহকর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ : নীতি বাস্তবায়নে সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে গণসাক্ষরতা অভিযান ও অক্সফাম বাংলাদেশ।
এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অক্সফাম বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার পিনাস আক্তার। তিনি বলেন, ২০১৬-২০১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীদের মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিত। এই বিশাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তাদের অধিকার এবং শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিচালিত একটি জরিপ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গত বছর মোট ৪৪ জন গৃহকর্মী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ১২ জনের রহস্যজনক মৃত্যুসহ মোট ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন। এছাড়া শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চরমভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ১২ জন, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন ৪ জন। এইসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় একটি করে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব কে. এম. আবদুস সালাম বলেন, সরকারি পর্যায়ে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ নিয়ে যথেষ্ট কাজ হচ্ছে। বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য সরকারের মনিটরিং সেল আছে। নীতিটির আওতায় শিশুশ্রমের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, গৃহকর্মে নিয়োজিত রয়েছে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী। তাদের কথা আমাদের ভাবতে হবে এবং আমাদের প্রত্যেকের ঘর থেকেই সেটি আমাদের শুরু করতে হবে। গৃহশ্রমিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ বাস্তবায়নের অবস্থা কী, এটিকে আইনে রূপান্তর করা যায় কি না সে বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নারী মৈত্রীর শাহীন আকতার, গৃহকর্মী অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসাইন ও রাজধানীতে কর্মরত কয়েকজন গৃহকর্মী।
