গবেষণায় দেখা গেছে, চল্লিশোর্ধ্ব নারীরা পুরুষদের তুলনায় নানা ধরনের রোগের ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ নিজের প্রতি নারীর অসচেতনতা ও সময় না পাওয়া। একজন নারী প্রতিদিন গৃহস্থালি কাজে মাত্রাতিরিক্ত শ্রম ও সময় দেন। আর কর্মজীবী নারীর পরিশ্রমের মাত্রা আরও বেশি। দেখা যায় ঘরে-বাইরে কাজের সমন্বয় করতে গিয়ে অনেক নারীই শারীরিক-মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকির কথা ভাববার সময় পান না। কিংবা তার ভাবনায় থাকে আমি অসুস্থ হলে এদের দেখবে কে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সব সামলাতে হয় বলেই নিজেকে নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। চল্লিশোর্ধ্ব নারী যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন জানালেন গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আতিকা সুলতানা
হৃদরোগ : হৃদরোগের ঝুঁকিতে পুরুষের তুলনায় সবচেয়ে বেশি থাকেন নারীরা। নারীমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃৎপিণ্ড ও ধমনির রোগ বা কার্ডিওভাসকুলার রোগ। বুকে ব্যথা না হলেও কোনো এক হাত বা দুই হাতে ব্যথা, গলা ও ঘাড়ে ব্যথা, চোয়ালে ব্যথা কিংবা পাকস্থলীর সমস্যা হলেও দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান, পরামর্শ নিন। কারণ এই ধরনের উপসর্গ হৃদরোগের আশঙ্কা তৈরি করে।
স্তন ক্যানসার : ২০ থেকে ৫৯ বছরের নারীদের ক্যানসারে মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী মারা যান স্তন ক্যানসারে। একসময় এটা চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের সমস্যা বলে ধরে নেওয়া হলেও এখন তরুণীদের মধ্যেও স্তন ক্যানসার দেখা যাচ্ছে। পরিবারের অন্য কারও স্তন ক্যানসার থাকা, বিআরসিএ জিন, বুকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির থেরাপি, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, বেশি বেশি লাল মাংস খাওয়া স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া জীবনযাপনে অতিরিক্ত প্রসাধনী নির্ভরতা, বাহুমূলে বেশি মাত্রায় গন্ধনাশকের ব্যবহার থেকেও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
জরায়ু ক্যানসার : অনেকেই মনে করেন, জরায়ু ক্যানসার হয়তো প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে হয়ে থাকে। কিন্তু ধারণাটা ভুল । যে কোনো বয়সেই নারীদের জরায়ু ক্যানসার হতে পারে। তবে বিশেষ করে ৪০ বছর বয়স্ক বা এর চেয়েও বেশি বয়সের নারীরা জরায়ু ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হন। জরায়ু ক্যানসারকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়ে থাকে। কারণ, এই অসুখ দেখা দিলে অনেক নারীই এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো বুঝতে পারেন না বা লক্ষণ দেখা দিলেও বিশেষ গুরুত্ব দেন না।
বিষন্নতা : চল্লিশোর্ধ্ব নারীরা নিজের অজান্তেই বিষন্নতায় ভোগেন। সামাজিক কাঠামো ও জীবনযাপনের ধরন বিষাদগ্রস্ততার বড় কারণ। মেনোপজের পর অনেক নারী বিষাদগ্রস্ততায় আক্রান্ত হতে পারেন। এ ছাড়া দাম্পত্য সম্পর্ক ও যৌনজীবন বিষাদগ্রস্ততার একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
