ঘর থেকেই বাবা-মা জেন্ডার নিউট্রাল পেরেন্টিং-এর মাধ্যমে ছেলে বা মেয়ের মানসিকতা তৈরি করে দিতে পারেন। এতে শৈশব থেকে নারী এবং পুরুষের মধ্যে কোনোরকম ভেদাভেদ না করে বড় হয়ে ওঠার গুণটি অর্জন করবে সন্তান। লিখেছেন মোহসীনা লাইজু
আমাদের দেশে খুব কম পরিবারেই জেন্ডার নিউট্রাল পেরেন্টিংয়ের চর্চা হয়। পরিবারের ছেলেমেয়ের মধ্যে ভেদাভেদ থাকে। অধিকাংশ বাবা-মা লিঙ্গ অনুযায়ী কিছু চিরাচরিত নিয়ম সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেন। তুমি ছেলে তুমি এটা করতে পারো। তুমি মেয়ে তোমাকে এটা মানায় না। এই ধরনের নানা বিধিনিষেধের মধ্যে সন্তান বড় হয়ে ওঠে। পশ্চাদ্গামী এমন ধ্যানধারণায় অভ্যস্ততা পরবর্তীকালে তাদের জীবনে আনতে পারে নানাবিধ সমস্যা। এজন্য বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে।
নিজেকে তৈরি করুন : প্রথমেই জেন্ডার নিউট্রাল পেরেন্ট হয়ে উঠুন। নিজেকে প্রস্তুত করে নিন। সন্তানের কাছে আদর্শ রোল মডেল হতে হলে, আজীবন যে সমস্ত বৈষম্যমূলক ধ্যান-ধারণা, আচার-আচরণ ধারণ করে আসছেন তা বাদ দিন। সন্তানের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার আগে নিজের মনোভাবে পরিবর্তন আনা জরুরি।
অযৌক্তিক ধারণা বদলে ফেলুন : জেনে রাখবেন, নারী বা পুরুষের নির্দিষ্ট কোনো বৈশিষ্ট্য বা মাপকাঠি নেই। আপনার ছেলের হয়তো খেলাধুলোতে তেমন উৎসাহ নেই বরং সে তার অবসর সময়ে ডিজাইনিং, কুকিং, হাউজকিপিং-এর মতন কাজে আগ্রহী। তার মানে এই নয় যে, সে তার অন্যসব বন্ধুদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে। তাকে নিরুৎসাহিত না করে, তার যেদিকে সহজাত আগ্রহ- সেদিকেই তাকে উৎসাহ দিন। এমনও তো হতে পারে, তার এই আগ্রহ তাকে একদিন খ্যাতনামা শেফ বা ফ্যাশন ডিজাইনার করে তুলবে। ছেলেদের কাজ, মেয়েদের কাজ এসব বলে তাকে পিছিয়ে দেবেন না।
ঘরের কাজে অভ্যস্ত করুন : ঘরোয়া কাজকর্মের ক্ষেত্রে ছেলেমেয়েদের মধ্যে কোনোরকম পার্থক্য করবেন না। আপনার ছেলেকে রান্নাঘরের কাজ শেখান। আপনার মেয়েকে বাজারের কাজ, যন্ত্রপাতি সারানো ইত্যাদি করতে দিন। এর ফলে তাদের মধ্যে ছেলেদের কাজ মেয়েদের কাজ বলে কোনো পার্থক্য গড়ে উঠবে না। তারা স্বাবলম্বী হয়ে বড় হবে।
একসঙ্গে খেলতে দিন : ক্রিকেট কিংবা পুতুল খেলা যাই হোক না কেন ছেলে বা মেয়ের আগ্রহ ও বয়স অনুযায়ী খেলতে দিন। ক্রিকেট টিমে যে মেয়েরাও যোগ দিতে পারে বা পুতুলও যে একজন ছেলে খেলতে পারে, সে শিক্ষা দিন ছোটবেলা থেকেই। দুজনের আগ্রহকেই সমান মূল্য দিন।
লিঙ্গ বৈষম্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন : বাবা-মা হিসেবে আপনার কোনো আচরণ যেন বৈষম্যমূলক না হয়। শৈশবে আপনার ছেলেকে শেখান একজন মেয়েকে কী করে সম্মান দিতে হয়, জীবনে একজন নারীর অবদান কী রকম। তেমনি আপনার মেয়েকেও শেখাতে হবে পুরুষ মানুষ মাত্রই খারাপ নয়। তার বাবা ভাই দুজনেই পুরুষ মানুষ। ভালো-মন্দের পার্থক্য তাকে বুঝতে হবে।
