রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগ

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২১, ০২:১০ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্রীকে তাদের পরিহিত পোশাক নিয়ে বিরূপ মন্তব্য ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষকসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানিয়েছেন, তাদের হেনস্তাকারী অন্য দুজন হলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক শিক্ষকের স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির এক নিরাপত্তা প্রহরী। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটের পাশে ওই ঘটনা ঘটে।

পরে সেদিনই রাতে তাদের মধ্যে একজন ফেইসবুকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নামে একটি গ্রুপে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একটি পোস্ট দেন। এরপর পোস্টটি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, হয়রানির শিকার দুই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের একটি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজন বৃহস্পতিবার রাতে ফেইসবুকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নামে একটি গ্রুপে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একটি পোস্ট দেন। এতে তিনি বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল সাড়ে চারটায় এক বান্ধবীর সঙ্গে কাজলা গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকি। বান্ধবীর ব্যাকপেইনের কারণে সে মসজিদের সামনে দাঁড়ালে হঠাৎ একজন (সম্ভবত শিক্ষক হবেন) চিৎকার দিয়ে বললেন যে ‘এই মেয়ে এখান থেকে যাও। লজ্জাশরম নেই? মসজিদের সামনে দাঁড়িয়েছ কেন?’ আমরা সেখান থেকে চলে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তৎক্ষণাৎ যে প্রহরী ছিলেন, তিনি গালাগালি শুরু করে দিয়েছেন। ‘আপনাদের ড্রেসআপের ঠিক নেই। নির্লজ্জ। আপনাদের ওড়না ঠিক নেই। বেয়াদব মেয়েমানুষ।’ আরও অনেক কিছু বলা শুরু করেন। আমি উনাকে প্রশ্ন করি, ‘আমরা চলে যাচ্ছিলাম কিন্তু আপনি ড্রেসআপ নিয়ে কথা বলছেন কেন?’

ফেইসবুক পোস্টে ওই ছাত্রী আরও লেখেন, ‘এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে এক নারী এসে বলেন, ‘বেয়াদব মেয়ে এখনো ওড়না দিয়ে শরীর ঢাকোনি আর তর্ক করছ?’ সেই শিক্ষক হুকুম দিলেন, আমাদের আইডি কার্ড রেখে দেওয়ার জন্য। আমরা হাঁটছিলাম, তখন উনি আমাদের ধরে আনতে ও আইডি কার্ড রেখে দিতে বলেন। এতে সেই প্রহরী সুযোগ পেয়ে আরও কিছু কথা শুনিয়ে বললেন, ‘আপনাদের স্যার বলছেন আইডি কার্ড দেন। নাহলে এখনই ক্যাম্পাস থেকে বের হন।’ এরপর আমরা মানসম্মানের ভয়ে নিজেরা ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে এলাম।’

হেনস্তার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ছাত্রী মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ওই শিক্ষকের বিভাগ ও নাম জানতে পেরেছি। এ ছাড়া অন্য দুজনের পরিচয়ও জানতে পেরেছি। শুক্র ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক বন্ধ। আগামীকাল (রবিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর ও যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে লিখিত অভিযোগ করব।’ অভিযোগ জমা দেওয়ার আগে হেনস্তাকারী শিক্ষকের নাম প্রকাশ করতে চান না বলেও জানান ভুক্তভোগী ছাত্রী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারা অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত