করোনা টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার আট সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি গণমাধ্যমে এবং বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে সরকার। সুতরাং যারা গণটিকাদান কর্মসূচি শুরুর দিন ৭ ফেব্রুয়ারি টিকা নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে ৭ এপ্রিল এবং সেদিন থেকেই দেশে দ্বিতীয় ডোজ টিকাদান শুরু হবে।
প্রথমে চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সরকার। সে হিসাবেই ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান শুরু হয় এবং কেন্দ্র থেকে টিকাকার্ডে চার সপ্তাহ হিসেবে দ্বিতীয় ডোজের তারিখ লিখে দেওয়া হয়। কিন্তু ১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দিলে অধিকতর ফল পাওয়া যায়। এ তথ্য জানার পর দেশের বিশেষজ্ঞরা দফায় দফায় বৈঠক করে সরকারকে চার সপ্তাহ থেকে সরে আসার সুপারিশ করেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেও বিষয়টিতে নীতিগত সাড়া দেওয়ার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সেদিন টিকাদান পরিকল্পনার পরিবর্তনের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী আট সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে। ৭ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাবে দেশের মানুষ।
অবশ্য দ্বিতীয় ডোজের টিকার তারিখ নিয়ে টিকাগ্রহীতারা কিছুটা বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। পরিবর্তিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আট সপ্তাহ হিসাবে দ্বিতীয় ডোজের নতুন তারিখের খুদে বার্তা না পাওয়ায় তারা বুঝতে পারছেন না কবে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে যাবেন। এমনকি কবে নাগাদ খুদে বার্তা পাবেন, এমন তথ্যও নেই কারও কাছে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম গতকাল শনিবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, দ্বিতীয় ডোজের খুদে বার্তা যাবে। চার সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজের সিদ্ধান্ত বাতিল করে আট সপ্তাহ করা হয়েছে। সেটা গণমাধ্যমে এবং বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে। কাজেই আগে যে তারিখ দেওয়া হয়েছিল, সেটা থাকবে না। ৭ এপ্রিলের আগেই সবার কাছে দ্বিতীয় ডোজের খুদে বার্তা পাঠানো হবে। প্রত্যেকে খুদে বার্তা পাবেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, যেসব কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্চের শেষ সপ্তাহ বা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধারাবাহিকভাবে টিকাগ্রহীতাদের দ্বিতীয় ডোজের তারিখ জানিয়ে খুদে বার্তা পাঠাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। তার আগেই সবাই খুদে বার্তা পাবেন।
তবে দ্বিতীয় ডোজের খুদে বার্তা পাঠাতে টিকাদান কেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোকে এখনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দ্বিতীয় ডোজের তারিখের খুদে বার্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নাকি আমরা পাঠাব, এখনো কিছু জানানো হয়নি। আমরা এখন টিকার সব তথ্য অ্যাপসের মাধ্যমে আপলোড করে অধিদপ্তরকে পাঠিয়ে দিই। ওই অ্যাপসে একটি কেন্দ্রের টিকাদানের সম্পূর্ণ তথ্য থাকে। আমরা এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার টিকা দিয়েছি। অধিদপ্তর বললে আমরা খুদে বার্তা পাঠাব।
এই পরিচালক বলেন, দ্বিতীয় ডোজের ব্যাপারে আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। এখন ৭ এপ্রিলের আগে দ্বিতীয় ডোজ শুরু হবে না। আমরা টিকা কার্ডে চার সপ্তাহ হিসাব করে যে তারিখ লিখে দিয়েছিলাম, সেটার আর কোনো মূল্য নেই। অ্যাপসের মাধ্যমে নতুন খুদে বার্তা যাবে।
আট সপ্তাহের ব্যবধানে টিকার দ্বিতীয় ডোজের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা জানান, সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ ব্যবধানে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করেই তারা এ পরামর্শ দিয়েছে। তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে দেখা গেছে, প্রথম ডোজের ছয় সপ্তাহের চেয়ে কম সময় অন্তর দ্বিতীয় ডোজ দিলে কার্যকারিতা হয় মাত্র ৫৩ শতাংশ। আর দ্বিতীয় ডোজটি ছয় সপ্তাহ পরে দিলে কার্যকারিতা হয় ৬৫ শতাংশ। কিন্তু দ্বিতীয় ডোজটি যদি দেওয়া হয় ১২ সপ্তাহে, তাহলে কার্যকারিতা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৩ শতাংশে। অর্থাৎ প্রথম ডোজের চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দিলে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা মূলত কমে যায় শতকরা ৩০ ভাগ। তাই বাংলাদেশেও চার সপ্তাহের বদলে আট সপ্তাহ করা হয়েছে।
