চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে ২ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সংস্থাটির চট্টগ্রাম অঞ্চল ‘চট্টগ্রাম জোনে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প-২’ শীর্ষক ওই প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শুরুও করেছে। পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই দৈনিক ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে নতুন প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। আর ‘যুগোপযোগী’ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলে কোনো বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং থাকবে না।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিডিবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান সামিনা বানু দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বড় বড় শিল্পাঞ্চলসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ক্রমান্বয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। আগামী ২০৩০-৩৫ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এলাকায় দিনে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে। এ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ‘চট্টগ্রাম জোনে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প-২’ শীর্ষক এ মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ‘চট্টগ্রাম জোনে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প-২’ শীর্ষক এ প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর একনেকে অনুমোদন পায়। ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে। ২ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের অধীনে ৩৩ কেভি সক্ষমতার ২৫টি নতুন সাবস্টেশন, ৯টি পুরনো সাবস্টেশনের সক্ষতা বৃদ্ধি, প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন সংস্কার, ৮৭ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড ডাবল সার্কিট কেব্ল স্থাপন, ৮০০ কিলোমিটার ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন এবং ৬ হাজার উন্নতমানের বিতরণ ট্রান্সফরমার বসানো হবে। নতুন এসব সাবস্টেশন নগরের ফৌজদারহাট, পাহাড়তলী, বাড়বকুণ্ড, রামপুর, আগ্রাবাদ, কালুরঘাট, ষোলশহর, স্টেডিয়াম, পাথরঘাটা, মাদারবাড়ী, হালিশহর, খুলশী, বাকলিয়া, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ ও পটিয়া বিক্রয়-বিতরণ বিভাগে স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি কক্সবাজারেও সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে।
পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে শহর এলাকার মতো গ্রামেও বিদ্যুৎনির্ভর কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও সুষ্ঠুভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সরঞ্জাম বা অবকাঠামোগত অবস্থা বিদ্যুৎ বিভাগের নেই। দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে গিয়ে কোথাও ট্রান্সফরমার বিকল আবার কোথাওবা বিদ্যুতের তার জ¦লে যায়। পাশাপাশি অবকাঠামো সংকটের কারণে বিদ্যুতের ভোল্টেজ স্থিমিত রাখাও কঠিন। ভোল্টেজ ওঠানামা করায় বিদ্যুতের অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ছে। এতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা মাঝেমধ্যে বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সঞ্চালন লাইন সংস্কারসহ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের উন্নয়নকাজ করা জরুরি। তাই ‘চট্টগ্রাম জোনে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প-২’ শীর্ষক প্রকল্পটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন পিডিবি কর্মকর্তারা।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও পিডিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এ মেগা প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আড়াই হাজার কিলোমিটার বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন সংস্কার, নগরীর রিয়াজুদ্দীন বাজার ও খাতুনগঞ্জে দুটি আন্ডারগ্রাউন্ডসহ ২৫টি নতুন সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে এবং নয়টি পুরনো সাবস্টেশনকে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। করোনার কারণে এতদিন নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। সম্প্রতি কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে প্রকল্পের সাড়ে ৫% নির্মাণকাজ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলে আর কোনো বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং থাকবে না।’
