চট্টগ্রামে সেই এসআইয়ের ‘কোটিপতি’ স্ত্রী কারাগারে

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২১, ০২:৫৩ এএম

চট্টগ্রামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক (এসআই) নওয়াব আলীর স্ত্রী গোলজার বেগমকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার মহানগর দায়রা ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এসআই নওয়াব আলীর স্ত্রী গোলজার বেগম। তিনি নগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

দুদকের ওই মামলার অন্য তিন আসামি হলেন গোলজার বেগমের স্বামী ঢাকা সিআইডির এসআই নওয়াব আলী, চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১-এর অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার (অবসরপ্রাপ্ত) বাহার উদ্দিন চৌধুরী এবং কর পরিদর্শক দীপঙ্কর ঘোষ । ১ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৬ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি করে দুদক। গোলজার বেগম মাছ চাষ করে ওই অর্থের মালিক হয়েছেন বলে দাবি করেন দুদকের কাছে। কর কর্মকর্তারাও প্রতিবেদন জমা দেন মাছ চাষ করা হয় বলে।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, ‘দুর্নীতির মামলায় ঢাকায় কর্মরত এসআই নওয়াব আলীর স্ত্রী গোলজার বেগম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আগামী ৬ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে দুজনকে আসামি করা হয়েছিল। দুদক তদন্ত শেষে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে দুই কর কর্মকর্তাসহ চারজনকে আসামি করে। ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকায় স্ত্রীর নামে সম্পত্তি কেনা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৯২ সালে কনস্টেবল পদে যোগ দেন নওয়াব আলী। মাছ চাষ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন বলে কাগজপত্রে দেখান এবং ওই অর্থের মালিক দেখানো হয় তার স্ত্রীকে। কিন্তু বাস্তবে মাছ চাষের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এ সম্পদের কারণে করা মামলায় দুদক নওয়াব আলী ও গোলজার বেগমসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত