১৫ আগস্টের ইঙ্গিত করে সমাবেশে বক্তব্য

৪ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২১, ০৩:০১ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ দলটির চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করা হয়েছে। রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার এ মামলার আবেদন করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল আবেদনটি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবেদন পেয়েছি। এটার এখন পরবর্তী বিষয়গুলো দেখা হবে।’ এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসাব্বিরুল ইসলাম বাদী হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার ওই আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, ‘মামলার আবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি অনুমোদন দিলে মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মিনু ছাড়াও যাদের নামে মামলার আবেদন করা হয়েছে তারা হচ্ছেন– বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিলন।

মামলার আবেদনে বলা হয়, গত ২ মার্চ বিএনপি রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করে। মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের অসৎ উদ্দেশ্যে নেতাকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মিজানুর রহমান মিনু প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হাসিনা রেডি হও, আজ সন্ধ্যার সময়, কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে, মনে নাই পঁচাত্তর সাল? পঁচাত্তর সাল মনে নাই?’

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, ‘মিনুর এই ঘোষণার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উগ্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। কিছু নেতাকর্মী সমাবেশের এই বক্তব্য ফেইসবুকে লাইভ সম্প্রচার করেন। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদুস তালুকদার দুলুসহ অন্যরাও একইভাবে বক্তব্য দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করেন এবং বেআইনিভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুমকি দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাসহ নির্বাচিত সরকার উৎখাতের প্রকাশ্য ঘোষণা ও হুমকি দিয়ে তারা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছেন। যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি বিপজ্জনক ও হুমকিস্বরূপ।’

এদিকে মামলার বিষয় অবগত করতে গতকাল দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ। এতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘সমাবেশে বিএনপি নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন সেগুলো অত্যন্ত বিদ্বেষমূলক, উসকানিমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক। মিজানুর রহমান মিনু ’৭৫ সালের মর্মান্তিক হত্যাকা-কে বাহবা দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এসব বক্তব্যের জন্য জাতির সামনে ক্ষমা চাওয়ার জন্য মিজানুর রহমান মিনুকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং তিনি তাদের দলের দপ্তর সম্পাদককে দিয়ে একটি বার্তা গণমাধ্যমে পাঠিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটি অবমাননাকর। আমরা এটি মেনে নিইনি। আমরা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করতে চাই।’

রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয় জানিয়ে মেয়র লিটন আরও বলেন, ‘আমরা এই প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। জেলা প্রশাসক বরাবরে আমরা একটি আবেদন করেছি। জেলা প্রশাসক এটি পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠাবেন। পুলিশ কমিশনার এটি তদন্ত করে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলবেন। এরপর জেলা প্রশাসক তখন অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। সেখানে প্রক্রিয়া শেষ হয়ে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এটি মামলা হিসেবে গ্রহণ হবে বলে আমরা আশা করছি। ভবিষ্যতে কেউ যাতে এমন করার সাহস না পায় সেজন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েই আমরা এই মামলাটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

গত ২ মার্চ বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ইঙ্গিত করে বক্তব্য দিয়ে প্রতিবাদের মুখে গত ৭ মার্চ দুঃখ প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। মিনুর পক্ষে রাজশাহী নগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন ই-মেইলে বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান।

রাজশাহীর ওই বিভাগীয় সমাবেশে মিনু তার বক্তব্যের একাংশে বলেন, ‘আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, রাজপথে থেকে দেশনেত্রী হয়েছেন। তাকে বের করে আনব, মুক্তি চাই না হাসিনা... রেডি হও। আজ সন্ধ্যার সময়, কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে। মনে নাই ’৭৫ সাল? ’৭৫ সাল মনে নাই?’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত