দেশে ২ কোটির বেশি মানুষ বিভিন্ন ধরনের কিডনি রোগে ভুগছে। এর মধ্যে ৫০ লাখ রোগী ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়া এসব শিশুদের মধ্যে মাত্র ১০ ভাগ পরিপূর্ণ বা আংশিক চিকিৎসা নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শহীদ মিলন হলে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কয়েকটি সেন্টারে দীর্ঘমেয়াদি শিশু কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিগত ১০ বছরে সারা দেশে মোট ২১৫ জন শিশু হিমোডায়ালাইসিস, ২৬ জন শিশু দীর্ঘমেয়াদি পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস ও ১১ জন শিশু কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে। যারা কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে, তাদের জীবনের গুণগত মান সবচেয়ে উন্নত। আর যারা ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই অনিয়মিত ও শেষ পর্যন্ত তারা চিকিৎসা থেকে ঝড়ে যাচ্ছে। এবং অনেকের অকালে মৃত্যু হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, শিশুদের কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। কিডনি রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম দেশব্যাপী পর্যাপ্ত ও সহজলভ্য করতে হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু কিডনি বিভাগে এই রোগের আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা বিদ্যমান রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও নেফ্রোলজি বিভাগে এই রোগের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু কিডনি বিভাগের চেয়ারম্যান ও পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিএনএসবি) এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. রনজিত রঞ্জন রায় বলেন, কিডনি রোগী সমাজের বোঝা নয়। সঠিক চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা ও গ্রহণযোগ্যতায় তারা যেমন সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারে, তেমনি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানও রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু কিডনি বিভাগের অধ্যাপক ও পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিএনএসবি) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান প্রমুখ।
