প্রতি উপজেলায় বিশেষজ্ঞ চক্ষু সেবা : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ০২:৪৯ এএম

সারা দেশে বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় ‘কমিউনিটি ভিশন সেন্টার’ স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় এই সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা পর্যায়ক্রমে করে দেব। ইতিমধ্যে আরও ১১০টি ভিশন কমিউনিটি সেন্টার স্থাপনের বিষয়েও চিন্তা করছি এবং সে পদক্ষেপও আমরা নিচ্ছি। এর জন্য মনে হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচটি বিভাগের আওতাধীন ২০টি জেলার ৭০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ‘কমিউনিটি ভিশন সেন্টার’র কার্যক্রম উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘কমিউনিটি ভিশন সেন্টারে কর্মরত দুজন সিনিয়র নার্স উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেজ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে রোগীর যাবতীয় তথ্য প্রেরণ করেন এবং রোগীর সঙ্গে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আধুনিক চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।’

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তার সরকার চক্ষু রোগীদের যেমন চোখে ছানি পড়া, গ্লুকোমা বা ডায়াবেটিস, রেটিনোপ্যাথি বা শিশুর চোখে আঘাতজনিত চিকিৎসা, পাওয়ার চশমার ব্যবস্থাপনা সরকারিভাবে দেওয়ার উদ্যাগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আধুনিক চক্ষু সেবার আওতায় আসা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের কার্যক্রম এবং রেফারেল ব্যবস্থার বিষয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্রও পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশের পাঁচটি বিভাগের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল যেমন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সিএমএমসি) এবং কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালকে বেজ মেডিকেল হাসপাতাল ধরে ২০টি জেলার ৭০টি উপজেলায় ৭০টি আই ভিশন সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রতিটি কমিউনিটি ভিশন সেন্টারে রয়েছে দক্ষ নার্স। তারা কোনো রোগী চিকিৎসার জন্য এলে আধুনিক যন্ত্রাংশের সাহায্যে তার চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সম্পূর্ণ ফলোআপ বেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং ওষুধ সেবা প্রদান করে থাকেন। পরে রোগীকে ওই ওষুধগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের নার্সরা সেবনবিধি বুঝিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে রংপুরের পীরগাছা উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কমিউনিটি ভিশন সেন্টারগুলো ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রী এসব স্থানের উপকারভোগী জনগণ, জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অন্ধজনে আলো দেওয়ার চেয়ে বড় কাজ হতে পারে না। অন্ধত্ব মানুষের জীবনকে অর্থহীন করে তোলে। এ চিকিৎসার ফলে তারা সুস্থ হবেন। দেখতে পাবেন। জীবন হবে অর্থবহ। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমরা সেবাটা দিচ্ছি।’

বাংলাদেশকে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে হলে সুস্থ মানুষ দরকার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জন্মান্ধতা দূর করার জন্য প্রসূতি মাকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছি। প্রসবের আগে ইনজেকশন দিয়ে দেওয়া হয়; যার কারণে এখন আমরা ভালো রেজাল্ট পাচ্ছি। জন্মান্ধতা কমে গেছে।’

তিনি বলেন, তার সরকার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে, কৃমির ওষুধ দিচ্ছে, ডিপিটি, বিসিজিসহ বিভিন্ন টিকাগুলো দেওয়া হচ্ছে অর্থাৎ সার্বিকভাবে মানুষ যাতে সুস্থ থাকতে পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতের চক্ষু হাসপাতাল চেইন অরবিন্দ হাসপাতালের সঙ্গেও চুক্তি হয়েছে এবং তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তাদের পরামর্শও আমাদের কাজে লাগছে।’ এজন্য অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানান।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘করোনাভাইরাস ইতিমধ্যে আমাদের দেশের যথেষ্ট ক্ষতি করেছে। যদিও টিকাদান শুরু হয়েছে, তারপরও আমি বলব মাস্ক পরে থাকা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং কিছুক্ষণ পরপর ভালো করে হাত পরিষ্কার করার যে স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে তা মানতে হবে।’

শেখ হাসিনা টিকাদানের ক্ষেত্রে সবার নাম রেজিস্ট্রেশন করায় গুরুত্বারোপ করে টিকাদান কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘টিকা দেওয়ার সময় আমি একটা কথা বলব প্রত্যেকের নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করে সেন্টারে যাবেন এবং আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে। যখন সময় আসবে আপনাদের ডাকবে তখন আসবেন। এখানে কোনোরূপ বিশৃঙ্খলা করবেন না। এ ধরনের ঘটনা অতীতে ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও যেন না ঘটে সেদিকে সবাই বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখবেন।’

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব শিক্ষাদীক্ষায় ও স্বাস্থ্যসেবায় এবং মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর স্বাধীনতাবিরোধী, খুনি ও লুটপাটকারীরা ক্ষমতায় আসে। যারা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে, এটা আশা করা যায় না। আমরা ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিলাম। পরে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে এগুলো বন্ধ করে দেয়।’

বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যার কারণে আমি ভিডিও কনফারেন্সে আপনাদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কথা বলছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। ব্রডব্যান্ড লাইনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করছি। মুজিববর্ষে কেউ সেবা বঞ্চিত হবে না। কেউ গৃহহীন থাকবে না। এজন্য সারা দেশে ঘর করে দিচ্ছি। নদীভাঙাদের ঘর করে দেওয়ার জন্যও আলাদাভাবে বাজেটে ১০০ কোটি টাকা রেখেছি।’ বাসস

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত