দুদককে হাইকোর্টের প্রশ্ন

বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞার কথা পি কে জানলেন কীভাবে

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ০২:৫৩ এএম

পি কে হালদারের বিদেশ যাত্রা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার চিঠি বিলম্বে পৌঁছানো এবং এই সুযোগে দেশ ছেড়ে তার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছে উচ্চ আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত চিঠি ১৩ ঘণ্টা পর পুলিশের ইমিগ্রেশনে যাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রশ্ন তুলেছে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। প্রযুক্তির এই যুগে একটা চিঠি পাঠাতে এত বিলম্ব হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে আদালত।

পি কে হালদার ইস্যুতে ‘আনান কেমিক্যাল’সহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। পরে অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে আনান কেমিক্যাল। গতকাল হাইকোর্টের এই বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠে। তবে এ সময় আনান কেমিক্যালের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান দুদকের আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান।

শুনানিতে দুদক আইনজীবী আদালতের উদ্দেশে বলেন, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাটার। কারণ এটি পি কে হালদার সংক্রান্ত বিষয়। এ সময় আদালত বলে, ১৩ ঘণ্টা পর চিঠি পাঠিয়ে তাকে (পি কে  হালদার) বিদেশ যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হলো। এটি কীভাবে হলো? চিঠির বিষয়টি তিনি কীভাবে জানলেন, কারা তাকে জানিয়েছে? এ সময় দুদক আইনজীবী বলেন, এ বিষয়ে দুদকের কোনো গাফিলতি নেই। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিঠি পাঠিয়েছি।

গত ১ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক পুলিশের ইমিগ্রেশন বিভাগের বরাতে জানান বিমানবন্দর নয়, যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সড়কপথে দেশ ছাড়েন রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পি কে (প্রশান্ত কুমার) হালদার। তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দুদক চিঠি ইস্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে দেশত্যাগ করেন তিনি। এর আগে দুদক এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগকে ২২ অক্টোবর ডাকযোগে চিঠি পাঠায়। সেটি ইমিগ্রেশন বিভাগ পরদিন সাড়ে ৪টায় পায়। এরপর পি কে হালদারসহ ২৪ জনের ফাইল প্রস্তুত করে দেশের সব বিমান ও স্থলবন্দরকে ওইদিন ৫টা ৪৭ মিনিটে অবহিত করা হয়। এর আগেই পি কে হালদার বেনাপোল দিয়ে পালিয়ে যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত