দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১,০৫১ রোগী শনাক্ত

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ০২:৫৪ এএম

দেশে ৫৯ দিন পর গত বুধবার হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্তের পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবারও সহস্রাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন আগের দিনের চেয়ে ৩৩ জন রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫১ রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৬০ দিন বা দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিন নমুনা পরীক্ষাও দীর্ঘদিন পর ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের  নমুনা পরীক্ষায় প্রায় ছয়জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত দুদিনই ৬ শতাংশের কাছাকাছি হারে রোগী শনাক্ত হলো। পুরো ফেব্রুয়ারিজুড়ে শনাক্ত হার ৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে হঠাৎ করেই করোনার ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। সংক্রমণ হার ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে গত তিন দিন ৫ শতাংশের বেশি হারে রোগী শনাক্ত হলো।

এদিকে গতকাল দেশে করোনায় সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে আট হাজার ছাড়িয়েছে। এদিন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এদিন মৃতদের সবাই পুরুষ ছিলেন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ হাজার ৫০২ জন।

গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ৩৬৯তম দিন। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২১৯ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি জিন-এক্সপার্ট, ৭২টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৮টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১৮ হাজার ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছুসহ পরীক্ষা করা হয় ১৮ হাজার ৫৮ জনের নমুনা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ৪২ লাখ ১৬ হাজার ২৮টি নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১৫৬ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৮ হাজার ৫০২ এবং শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩০৭ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৭ হাজার ৯২০ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৩ এবং সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৩০ পুরুষ ও ২ হাজার ৭২ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৬৩ ও নারী ২৪ দশমিক ৩৭ ভাগ।

শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করা তিনজন ঢাকা বিভাগের এবং বাকি তিনজন চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের। এ নিয়ে করোনায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭৫৮ জন মারা গেল ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫৭১, খুলনায় ৫৬৩, রাজশাহীতে ৪৮১, রংপুরে ৩৬৪, সিলেটে ৩১১, বরিশালে ২৫৭ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১৯৭ রোগী মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব পাঁচ এবং ৫১-৬০ বছরের ছিলেন একজন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭১ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ৪০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ৯ হাজার ৫৭১ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩২ হাজার ১৫৪ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১০ হাজার ২৮৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৭৬৯টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৫৬৬টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ২২৪টিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত