ড্রেজিং শেষে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা পাবে মোংলা : নৌ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২১, ০১:১৮ এএম

মোংলা বন্দরের জেটিতে স্বাভাবিক জোয়ারের সহায়তায় ৯.৫-১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডেল করার লক্ষ্যে গতকাল শনিবার বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং কাজ শুরু হয়েছে। নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মোংলা বন্দরের জয়মনিরগোল পয়েন্টে ড্রেজিং কাজ উদ্বোধন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, মোংলা বন্দরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে, রেললাইন হচ্ছে। ইনার বারে ড্রেজিং শেষ হলে এটি আন্তর্জাতিক মানের বন্দরে পরিণত হবে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সমমানের সক্ষমতা অর্জন করবে মোংলা। ইনার বারে ড্রেজিং প্রকল্পের জন্য ব্যয় হবে ৭৯৪ কোটি টাকা। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হবে। ইনার বারে ২১৬ দশমিক ৯ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হবে।

চীনের প্রতিষ্ঠান জিয়ানসু হাইহং কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন ড্রেজিং কাজটি করবে।

নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে বন্দরের বিভিন্ন প্রকার হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ড্রেজিং করার জন্য নানাবিধ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্দরের আউটার বারে ড্রেজিং করা হয়েছে। আউটার বারে ড্রেজিংয়ের ফলে বন্দরের অ্যাংকোরেজ এলাকা পর্যন্ত ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ অনায়াসে আসতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আসা শুরু হয়েছে। এতে বন্দরে জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বন্দরের রাজস্ব আয় বাড়ছে।

তিনি বলেন, ইনার বারে ড্রেজিং শেষ হওয়ার পর বন্দরে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমে যাবে, পরিবহন খরচ সাশ্রয় হবে। বন্দরে জাহাজের সংখ্যা অনেকাংশে বাড়বে। মোংলা বন্দর ব্যবসাবাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে, যা বর্তমান সরকারের ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মোংলা বন্দর সম্প্রসারণে ভারতীয় ঋণের আওতায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ সময় খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী,  মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা এবং প্রকল্প পরিচালক শেখ শওকত আলী উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত