৪১তম বিসিএস পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ ১৯ মার্চ। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এই পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে কয়েক দিন ধরে পরীক্ষার্থীরা মানববন্ধন করছেন। শুধু তা-ই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা। এই দাবির মুখে পরীক্ষা পেছানো হবে কি না, জানতে সরকারি কর্মকমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, পরীক্ষা বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার উচ্চপর্যায় থেকে পেছানোর সিদ্ধান্ত না হলে পরীক্ষা যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে সারা দেশের কেন্দ্রগুলোয় ইতিমধ্যে পরীক্ষার সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
করোনার সংক্রমণের মাত্রা কমে এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া, সব নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষাগুলো নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করোনার সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ৪১তম বিসিএস পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে পরীক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে আসছেন। তাদের অনেকেরই দাবি, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৪২তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে অনেক শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে অনেকেই এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। ফলে ৪১তম বিসিএস পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হোক। ‘৪১তম বিসিএস প্রিলি-রিটেন বাস্তবায়ন’ নামে পাবলিক ফেইসবুক গ্রুপে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত রবি ও গতকাল সোমবার একই দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেছে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ। তাদের দাবি, ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে বিশ^বিদ্যালয়-কলেজের হল খোলা ও করোনার টিকা কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর এখন বুয়েটে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত মো. রফিকুল ইসলামও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এর আগে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কর্মকর্তারা যখন বিসিএসের তারিখ ঘোষণা করেন, তখন দেশে করোনা সংক্রমণের হার কম ছিল। তাই আমরা তারিখটিকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। এখন যেহেতু করোনা সংক্রমণের হার আবার বেড়েছে, হল বন্ধ, সবাই বাড়িতে অবস্থান করছেন, তাই তারিখ পেছানো দরকার। বিসিএসসহ চাকরির পরীক্ষাগুলোর সঙ্গে আমাদের গোটা পরিবারের স্বপ্ন জড়িত। আমরা চাই, একটা সুস্থ পরিবেশে পরীক্ষা দিতে। সবকিছু যেখানে বন্ধ, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা বিসিএস পরীক্ষা দিতে চাই না।’
গত ৮ মার্চ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ৪১তম বিসিএস পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসহী শামীম ওসমান। করোনাভাইরাসে এক বিসিএস পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, একটি বিসিএসের কারণে আরও কিছু জীবন ঝুঁকিতে পড়বে না এর নিশ্চয়তা কী? তবে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনায় চলমান ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা অচিরেই করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হল খোলার আগেই সম্পন্ন হবে, তাই মাত্র দুই মাস পরেই ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে ৪১তম বিসিএস নেওয়া যেতে পারে। পরীক্ষার কেন্দ্রে যাতায়াত এবং আবাসন সমস্যার কথা তুলে ধরে শামীম আরও বলেন, এসব সংকট এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরেই পরীক্ষা নেওয়া যৌক্তিক।
পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ আছে কি না, জানতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে গতকাল একাধিকবার মোবাইলে কল করা হলে তারা রিসিভ করেননি। তবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তই রয়েছে। পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে নির্দেশনা নেই। পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত হলে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উচ্চপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে মন্ত্রণালয় অটল। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত যদি জানায় তাহলেই কেবল পরীক্ষা পেছাবে। অন্যথায় পরীক্ষা যথাসময়েই হবে।
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার সব সরঞ্জাম কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে। লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম তাদের কেন্দ্রে পরীক্ষার সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
