যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা!

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২১, ০২:৩৫ এএম

মাদারীপুরের কালকিনিতে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর দুই চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে সাদিয়া বেগম (২১) নামে ওই তরুণীকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। গত শনিবার এ ঘটনা ঘটলেও নির্যাতনের শিকার তরুণীর পরিবারের সদস্যরা গতকাল সোমবার গণমাধ্যমকর্মীদের তা জানান।    

ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাদিয়ার মা বাদী হয়ে গত শনিবার রাতেই জামাই নাসির মোল্লাসহ তার পরিবারের ৮ সদস্যকে আসামি করে মামলা করেছেন। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার সাদিয়ার স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, কালকিনির গোপালপুর এলাকার পশ্চিম বনগ্রাম গ্রামের দরিদ্র কৃষক বারেক চৌকিদারের মেয়ে সাদিয়া বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার বালিগ্রাম এলাকার গুঙ্গিয়াকুল গ্রামের কাসেম মোল্লার ছেলে নাসির মোল্লার প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় স্বামী নাসির মোল্লা স্ত্রী সাদিয়া বেগমকে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। সাদিয়ার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় দাবি করা যৌতুকের টাকার মধ্যে ধারদেনা করে ২ লাখ দিতে পারলেও বাকি ৩ লাখ টাকা দিতে পারেনি। এছাড়া সাদিয়া বিয়ের পরও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ায় তা মেনে নিতে পারছিল না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এরই ধারাহিকতায় স্বামী নাসির মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার দুপুরে পরিবারের লোকজন নিয়ে সাদিয়ার দুই চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টাসহ তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে ডাসার থানা পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় সাদিয়াকে উদ্ধার করে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ওইদিন রাতেই মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় সাদিয়ার মা পারভীন বেগম বাদী হয়ে ডাসার থানায় মামলা করেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে সাদিয়ার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে রয়েছে।

সাদিয়ার মামা সবুজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ভাগ্নির চোখ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আমরাও বিষয়টি জানতাম না। গোপনে আমার ভাগ্নি নিজে ৯৯৯-এ কল দিয়ে নিজেকে উদ্ধার করায়।’

মামলার বাদী সাদিয়ার মা পারভীন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মেয়ে জামাই নাসিরের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়েকে দিনের পর দিন প্রচণ্ড মারধর করে। সে তার পরিবারের লোকজন নিয়ে আমার মেয়ের দুই চোখ উৎপাটনের চেষ্টা করে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডাসার থানার এসআই মো. রিপন মোল্লা বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে সাদিয়া নামের ওই গৃহবধূকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় নির্যাতনের মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।’

অন্যদিকে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) আব্দুল হান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী সাদিয়া নামের ওই গৃহবধূ ৯৯৯-এ কল করলে আমাদের পুলিশের মাধ্যমে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে তার মা বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেছেন। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত